যে শিশু গলায় ঝোলার কথা ফুলের মালা, সেখানে ছুরি চালিয়েছে বাবার বয়সি এক নরপশু। পবিত্র রোজার মাসেও ৭ বছরের ছোট শিশুর সাথে নিজের পশুবৃত্তি চরিতার্থ করার লোভ পরিত্যাগ করতে পারেনি যে ব্যক্তি, তার মুখে আবার সুন্নতি দাড়ি। ওর চেহারা দেখে বোঝার উপায় নাই যে সে মানুষ নামের এক ভয়ংকর শয়তান। তাহলে আমরা, আমাদের শিশুরা নিরাপদ কোথায়? 
আর এমন একটা দেশে বসবাস করি যেখানে মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার চাইতে অপরাধীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ বেশি, সুবিধাও বেশি। এক একটা হত্যা, ধর্ষণের পর একদিন না একদিন গ্রেফতার হয়। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিও দেয়। কিন্তু তারপরও দেখা যায় কয়েক মাস বা কয়েক বছর পরে আসামি মুক্তি পেয়েছে। থানা থেকে আদালত, ময়না তদন্ত, চার্জশিট, সাক্ষী-জেনা হেনতেন করতে করতে করতে রাষ্ট্রের সময়, অর্থ, পরিশ্রম, লজিস্টিক সাপোর্ট সবই ব্যয় হয়।
তারপর একসময় আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে অপরাধী পার পেয়ে যায়। ফলে দেশে অব্যাহতভাবে হতেই থাকে একের পর এক হত্যা-ধর্ষণ। গত এক সপ্তাহে দেশে আলোচিত বেশ কয়েকটি এরকম ঘটনা ঘটেছে। এক মাস, এক বছর বা ১০ বছর হিসাব করলে তখন আর এই রাষ্ট্রকে মানুষের রাষ্ট্র বলে মনে হয় না। আমার বুঝে আসে না যে সব হত্যা ও ধর্ষণের ক্ষেত্রে আসামিই নিজেই স্বীকারোক্তি দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার ভিডিও ছবি-ফুটেজও পাওয়া যায়। এই ধরনের আসামিরাও কীভাবে মুক্তি পেয়ে যায়?
যে সকল পুলিশ, উকিল, বিচারক, জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক নেতা, এ সকল খুনি-ধর্ষকদের আইনের ফাঁকফোকর দেখিয়ে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেয়- তারা ভাত খায় কিভাবে? ভাত খাওয়ার সময় তাদের প্লেটে কী নির্যাতিত মানুষের চেহারা ভাসে না? পানি খাওয়ার সময় কী তাদের মনে হয় না যে তারা মানুষের রক্ত খাচ্ছে? ঘুমানোর সময় চোখ বন্ধ করলে তাদের সামনে ক্ষতবিক্ষত, গলিত-পোড়া লাশগুলো ভেসে বেড়ায় না?
যতক্ষণ না পর্যন্ত আসামি ধরার পর ২৪ ঘণ্টার ভিতরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করার আইন তৈরি না হবে, এই দেশ থেকে হত্যা-ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ফাঁসি অথবা ব্রাশফায়ার করার আইন থাকা উচিত।— যে রাষ্ট্রে অহরহ এসব অন্যায় হয়, সেই রাষ্ট্রের আসামিদের মানবিকতা দেখানো উচিত নয় বলেই মনে করি।
চট্টগ্রামে শিশু ইরাসহ সাম্প্রতিক সময়ে গোটা সকল হত্যা ও ধর্ষণের সম্পৃক্ত আসামিদের দ্রুততম সময়ে জনসম্মুখে শাস্তির দাবি করছি।
মনিরুল ইসরাম শ্রাবণ
৩ মার্চ ২৬




0 মন্তব্যসমূহ