Ticker

6/recent/ticker-posts

কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ স্থানান্তর করা হোক।



জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ আরো বৃহৎ পরিসরে হওয়া উচিত। যেখানে থাকবে পরিকল্পিত বিস্তীর্ণ উদ্যান, ফুল, ফুলের বাগান। থাকবে মাল্টি কমপ্লেক্স ভবন। থাকবে কালচারাল কমপ্লেক্স, অডিটোরিয়াম, আলোকচিত্র প্রদর্শনী কেন্দ্র (যেখানে কবি নজরুলের পুরো জীবনচিত্র ধাপে ধাপে ঝোলানো থাকবে) কবির লেখা বিভিন্ন কবিতা-গান খোদাই করা থাকবে দেয়ালে দেয়ালে। কবিতা বা গানের বস্তুর উপর থাকবে নানা ভাস্কর্য। 

থাকবে একটি লাইব্রেরি, যেখানে কবি নজরুলের লেখা সকল বই এবং তাঁকে নিয়ে লেখা অন্যদের লেখক সকল বই। থাকবে দীর্ঘ সময় পড়া এবং গবেষণা করার উপযুক্ত পরিবেশ। (কবি নজরুলের লেখা কবিতা আবৃত্তি শেখার ব্যবস্থাও রাখা উচিত-যেন উল্টা-পাল্টা আবৃত্তি করে কেউ নিজেকে নজরুল ভক্ত দাবি করতে না পারে।) 

এবং থাকবে একটি মসজিদ। মসজিদের পাশে শুয়ে থাকবেন কবি একা, শুধু একা, আর কেউ নন (তাঁর থেকে বড় থেকে যদি কেউ থেকে থাকেন তিনিও নন)। কেননা কবিতো সেখানে আর একা থাকবেন না, শত শত ভক্তরা দিনরাত মুখরিত করে রাখবেন নজরুলের চারপাশ।

বিস্তীর্ণ উদ্যান জুড়ে থাকা সমাধিসৌধে প্রবেশ করার শর্ত হিসেবে থাকবে কবির বই কেনা। বড়রা কিনবেন বড়োদের বই, ছোটরা কিনবে ছোটোদের বই। কাউন্টার থেকে বই কিনে নির্দিষ্ট দিনের টোকেন নিয়ে ভিতরে ঢুকবেন দর্শনার্থীরা। মানুষ হাঁটতে হাঁটতে জানবে কবি নজরুলকে। ঘুরতে ঘুরতে শিখকে কবির প্রেম-বিরহ-দ্রোহ-বিদ্রোহ, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও দেশপ্রেমের চেতনাগুলোকে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ স্থানান্তর করা হোক। যানবাহন ও নানা বিবিধ শব্দ দূষণে তিনি হাঁপিয়ে উঠছেন। তাঁকে নিরিবিলি স্থানে নেওয়া হোক। যেখানে লিচু পাড়তে গেলে তেড়ে আসবে না কোনো মালি। সকাল বেলার পাখি হওয়ার বায়না ধরবে ছোট্ট খোকা। যেখানে আপন হাতেই মুঠোয় পুরে বিশ্ব দেখার মন্ত্র নেবে দুরন্ত কিশোর।

যেখানে ‘বল বীর – আমি চির উন্নত শির! আমি দুর্বার, আমি ভেঙে করি সব চুরমার!’ বলে মন্ত্র নেবে বিদ্রোহী তরুণ। সকল অত্যাচার-অনিয়মের বেড়াজাল ভেঙে সব কিছু নতুন করে গড়ে তোলার প্রেরণা নেবে যুবারা। ‘ঐনূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়’ গাইতে গাইতে নতুন প্রজন্মকে, বিশ্বকে জয়ধ্বনি শোনাবে মধ্যবয়সিরা। 

যেখানে ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রানী দেব খোঁপায় তারার ফুল’ কিংবা তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ? এই গানগুলো শুনতে শুনতে এককে উপরের কাঁধে ঘুমিয়ে পড়বে প্রেমিকযুগল। যেখানে 'বার্ধক্য তাহাই—যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে, বৃদ্ধ তাহারাই— যাহারা নব অরুণোদয় দেখিয়া নিদ্রাভঙ্গের ভয়ে দ্বার রুদ্ধ করিয়া পড়িয়া থাকে” এরুপ ভর্ৎসনা শুনে যৌবনের গান গাইবে বৃদ্ধরাও।

যেখানে থাকবে ফুলের হাসি, পাখির গান, বৃষ্টির শব্দ, কবিতার ঝংকার, নূপুরের নিক্বণ এবং মোয়াজ্জিনের সুর। খুকি ও কাঠবিড়ালির দৌড়াদৌড়ি দেখে কবি মুগ্ধ হবেন, মুচকি হাসবেন আর কবর থেকে মনে মনে বলবেন "আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে”।

---------

জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি হে বিদ্রোহী

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

২৫ মে ২৬

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ