লেখক-পাঠকের তীর্থস্থান এই বইমেলা নিয়ে সবার অপেক্ষা থাকে সারা বছরজুড়ে। সারা বছরে বিভিন্ন লেখকের নানা বই প্রকাশিত হলেও বইমেলাকে কেন্দ্র করে এই প্রকাশিত হয় সর্বাধিকসংখ্যক বই। আর এসব বইয়ের লেখক-পাঠক প্রকাশকের পদভারে মুখরিত হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সারি সারি বুক স্টলের মাঝখান দিয়ে হাঁটতে থাকা মানুষদের মনে হয় যেন বিশাল এক বইয়ের এক পৃষ্ঠা থেকে আরেক পৃষ্ঠায় হেঁটে যাচ্ছে এক ঝাঁক বর্ণমালা। অ, অ, ক, খ-এর মিছিলে হাঁটছি আমি নিজেও।
নির্বাচন, রমজান ও মার্চ মাসে বইমেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় নানা বাস্তবতায় এবারের বই মেলায় পাঠক-দর্শনার্থী কম হলেও লেখক-প্রকাশক, সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মীসহ বইপ্রেমী মানুষরা রোজ ঠিকই মেলায় আসছেন। ঘুরতে ঘুরতে তাদের কারো সাথে দেখা হয়ে যাচ্ছিল এই পবিত্র আঙিনায়। তাদের মধ্যে লেখক-সম্পাদক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ ভাই, রম্য লেখক ও সম্পাদক শফিক হাসান ভাই, প্রকাশনা সংস্থা সংযোগ ও বাবুই-এর স্বত্বাধিকারী কবি ও সাংবাদিক কাদের বাবু ভাই, কিডস কারভানের স্বত্বাধিকারী লেখক-প্রকাশক ও সম্পাদক প্রিন্স আশরাফ ভাই। গত বছর প্রিন্স আশরাফ ভাইয়ের সম্পাদিত ছাড়া সাময়িকী ‘ছন্দপুরে’ আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। পূর্ব পরিচয় না থাকায় এবার পরিচিত হয়ে নিলাম দুজনে।
মেলায় এসেই রহিম স্যার আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন, তিনি তার নিজের প্রকাশনা স্টল ও মোসলেম উদ্দিন সাগর ভাইয়ের সাথে সময় কাটাচ্ছিলেন। আর কথাসাহিত্যিক আমির হোসেন স্যার সাথে দেখা হচ্ছিল মাঝে মাঝে। স্যার ঘুরছেন স্যারের মতো, আমি ঘুরছি আমার মতো।
এবার ঘোরাঘুরিতে আমাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ কবি মুরাদ আল হাসান ও নব ভাবনা ‘কাগজঘরে’র সমন্বয়ক, আবৃত্তিশিল্পী তারিকুল আমিন। এই লেখায় তাদেরকে ধন্যবাদ না জানালে হচ্ছেই না যে।
প্রিয় মানুষদের সাথে একটু দেখা, একটু কথা, আর একটি স্মৃতি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে না পারলেও সবার তাড়া থাকায় বইমেলাতে এই একটুকু স্মৃতি পরবর্তী বইমেলা পর্যন্ত, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সারা জীবনের জন্য সবার সম্বল। ঘুরতে ঘুরতে কারো বইয়ের সাথে পরিচয় হওয়া, নানা জেলার লেখক, সম্পাদক ও প্রকাশনীর সংস্থার সাথে পরিচিত হওয়া, কোনো কোনো বই বা সাহিত্য সাময়িকী সংগ্রহ করার কাজগুলোও চলছিল একই সাথে। সাথে ছবি তোলা আর সেলফিবাজিতো আছেই।
আজকের পর্ব শেষ করতে চাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উক্তি দিয়ে, তিনি বলেছেন, ‘বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেওয়া সাঁকো।’ সকল সমস্যা কাটিয়ে সম্ভাবনার দোয়ার খুলে দিতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত সাঁকোর বন্ধন হয়ে থাকুক আমাদের প্রাণের বইমেলা।
(এই লেখাটির পরবর্তী পর্ব পড়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের দুইটি পর্ব ফেসবুকে পোস্ট করা আছে। এছাড়াও সবকটি লেখা পড়া যাবে আমার ব্লগে। লিংক কমেন্টে দেওয়া হলো। ধন্যবাদ)
বইমেলার স্মৃতি-৩
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
১৩ মার্চ ২৬











0 মন্তব্যসমূহ