Ticker

6/recent/ticker-posts

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর


মনটা তার উড়ে গিয়েছিল আরো বহু আগেই-

কেবল পড়ে এক অবাধ্য আড়ষ্ট দেহ

তারপর পর একদিন স্বপ্নটাও মেলেছিল ডানা

শত্রু ভূমি থেকে মাতৃভূমির ঠিকানায়।


ঐ তো দিগন্ত রেখা- সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে 

                                  এক কাঁটাতারের দেয়াল

ওপাশেই এক বন্ধু ভূমি- 

সেখানে যেতেই পারলেই কিছুটা নিশ্চিন্ত।

তাররেই উড়ে যাওয়া যাবে 

                             মায়ের কাছে, বাবার কাছে

শত্রুর সাথে লড়াই করতে থাকা

                                 একদল ভাইয়ের কাছে।

হঠাৎ স্বপ্ন ধূলিসাৎ 

নিমেষেই ধূপ ধাপ শব্দে পড়ে যায় স্বপ্নবাজ পাখি

টুট টুট শব্দে থেমে যায় তার হৃদ্ স্পন্দন, আর

পিট পিট করতে করতে থেমে যায় 

                           একজোড়া অতৃপ্ত রঙিন চোখ।


নিদারুণ ঘৃণায়, চরম যত্নে দেহখানি ঠায় হয়—

                                                     পরভূমিতে।


চোখের তৃষ্ণার সাথে এবার যোগ হয় দেহের তৃষ্ণা,

কবে, কবে পাওয়া যাবে জন্মভূমির মাটির ছোঁয়া?

নাকি তা চিরকাল অপূর্ণই থেকে যাবে?


না খুব বেশিদিন তাকে অপেক্ষা করতে হয়নি

৩৫ বছর! মাত্র ৩৫ বছরই পরেই 

সে দেহ, সে চোখ তৃপ্ত হতে পেরেছিল।


কিন্তু, ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস!

তখন সেখানে তাঁর কবরে লেখা ছিল-

এখন এখানেও লেখা হবে- 

                      ‘ইধার সোঁ রাহা হে এক গাদ্দার’।


—-----

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

২২ জানুয়ারি ২৬


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ