রাত নেমেছে কাপ্তাই হৃদের উপর। ঘরে ফেরা পাখির মতো- নিঃশব্দে, ডানা মেলে। ডানায় তুলে সাথে নিয়ে এসেছে এক ঝাঁক হিমেল হাওয়া। যেন একখণ্ড বিশাল বরফের আছাদন। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই একে একে থেমে গেছে বিভিন্ন নৌকার শব্দ। ভ্রমণ পিয়াসীদের সাথে নিয়ে দিনভর শান্ত জলের বুকে ঢেউ তুলেছিল যারা। যেগুলো এখনো তীরে ফেরেনি, তারা এগিয়ে চলছে অনেকটা নিঃশব্দে। যেন তারাও ক্লান্ত।
গাছে গাছে পাখিরাও নিচুপ। তারাও জেনে গেছে ক্লান্ত পর্যটকদের এখন প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। যারা গতকাল কিংবা পরশু এই শহরে এসেছে, খানিক তাদের সঙ্গ নিতে। পেছন ফেলে আসা আঁকা-বাঁকা উঁচু-নিচু দীর্ঘ রাস্তাটি যেন শরীরকে বলছিল- না, আর না। এবার ঘুমিয়ে পড়ো পাড়ারের কোলে। পাহাড়! ছোট, বড়, মাঝারি। দূরে যেগুলোকে দেখে দেখে মনে হয় একে অপরের সাথে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। যেন জানাজা নামাজে দাঁড়িয়ে আছে নির্বাক একদল মানুষ।
কোনো কোনো পাহাড়কে মনে হয় যেন সপরিবারে দাঁড়িয়ে আছে। কোনো কোনোটাকে মনে হয় একটা আরকেটাকে কোলে নিয়ে রেখেছে। আগলে রেখেছে পরম মমতায়। কোনো কোনোটা মনে হয় রহস্যময় কোনো জ্বীন বা পরি। এই যেন জাদুর কাঠি নেড়ে আমাকে ঘুম পাড়য়ে দেবে। রেস্ট হাউজের বিছানা সত্যিই এবার পাহাড়ের কোলা মনে হলো। মনে পড়ল বাসায় রেখে আসা পরিবারের সদস্যদের কথা। ওরা সাথে আসলে তো আরো ভালো লাগতো। পরিবারে ছাড়া আনন্দ যেন অপূর্ণই থেকে যায়। এসব ভাবেতে ভাবতে এভাবেই কেটে গেল এক সীমাহীন নিস্তব্ধ একরাত।
পাহাড়-হৃদের দেশে…রাঙামাটি ভ্রমণ-২০২৫ (পর্ব-১)
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
মধুমতি রেস্টহাউজ, রিজার্ভ বাজার সড়ক, রাঙামাটি।
২৫ ডিসেম্বর ২৫



0 মন্তব্যসমূহ