ভেবে ছিলাম…
তুমি ফিরে আসবে,
পাতালপুরীর গল্প শোনাবে আমাদের!
ঐ যে দৈত্যটা!
যার প্রাণ বন্দি থাকে একটা পাখির ভেতর,
তুমি আধো আধো বোলে বলবে-
তাকে দেখার কথা।
হয়ত বলবে-
তুমি সেখানে পেয়েছ একটি গুপ্তধনের খোঁজ!
পেয়েছ হিরে-জহরত, মনি-মুক্তার খোঁজ।
জানো সাজিদ…
আমরা ভেবে ছিলাম-
মাটির নিচে গরম, নাকি ঠান্ডা
সেই গল্প শুনবো তোমার কাছ থেকে,
শুনবো তোমার মৃত্যুপ্রায় অভিজ্ঞতার কথা।
আচ্ছা বাছা…
তোমার কি খুব তেষ্টা পেয়েছিল তখন…
পেলেই বা কী?
তুমি পানির খুব পাশাপাশি ছিল তখন।
কিন্তু একি…
আমরা অবাক হয়ে লক্ষ করলাম
যে নলকূপ খোঁড়া হয়েছিল পানি তোলার জন্য
মাটির এত নিচেও এক ফোঁটা পানি নেই সেখানে!
পানির নলকূপে পড়ে গিয়েও
ভীষণ তেষ্টার সময় এক ফোঁটা পানি পাওনি তুমি
এই কষ্ট আমরা কোথায় রাখি,
কার কাছে অভিযোগ দিই?
জানো সাজিদ…
একটি ঢাকনার অভাবে তুমি চলে যাবে জানলে
পৃথিবীর
সব নলকূপ ঢেকে দিতাম
তোমার মায়ের আঁচলে,
কেননা ওরা যে বারবার ভুলে যায়-
আট ইঞ্চি খোলা নলকূপে ঢাকনা লাগাতে
নয়তো সেখানে পরে যেতে পারে
কোনো পশুর ছানা কিংবা
তোমার মতো ছোট্ট কোনো শিশু।
ভেবে ছিলাম…
তুমি ফিরে আসবে,
আচ্ছা তুমি কি জানো…
তোমাকে
ফেরাতে আমার নিয়ে এসেছিলাম
ইয়া বড়ো বড়ো দানব যন্ত্র!
কৃত্রিম অক্সিজেন দেবার
ব্যবস্থা
কত্ত গুণী ইঞ্জিনিয়ার এসেছে সেখানে!
ইশ তুমি যদি দেখতে -
তোমার জন্য অপেক্ষায় কত শত চোখ-
পাখির মতো চেয়ে আছে বিশাল মৃত্যুকূপের দিকে।
শত শত চোখের মাঝে আমি শুধু
তোমার বাবা চোখটা ভালো করে দেখলাম
সেই চোখে কত প্রশ্ন, কত আগুন, কত প্রতীক্ষা।
শুনলাম তোমার মায়ের কথা-
বলছিল- তুমি নাকি
মা মা চিৎকার করতে করতে
পড়ে যাচ্ছিলে মহা অতলে...
বিশ্বাস করো সাজিদ
তিন ফুট মাটির নিচে শোয়ানোর জন্য
পঁয়তাল্লিশ ফুট মাটির নিচ থেকে
তুলে আনিনি তোমার ছোট্ট দেহ।
আমাদের
সীমিত সাধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল
তোমাকে
জীবিত ফেরানোর
ছিল বত্রিশ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর
এক ব্যর্থ অভিযান।
আমরা ভেবে ছিলাম…
তুমি ফিরে এসেই ঝাঁপিয়ে পড়বে
তোমার সে মায়ের কোলে
যার পিছনে পিছনে হাঁটতে তুমি পড়ে গিয়েছিল,
আর তোমার সাথে পড়ে গিয়েছিল
শিশুর জন্য অনিরাপদ একটি রাষ্ট্রও।
আচ্ছা সাজিদ-
তুমি আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের নামে নালিশ দিবে ?
যদি দাও তাহলে তাঁকে বলো
পৃথিবীর
দুইটি দেশে তিনি যে কোনো শিশু না পাঠান
ফিলিস্তন
আর বাংলাদেশে।
------
সাজিদের জন্য শোক
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
১৭ ডিসেম্বর ২৫
0 মন্তব্যসমূহ