এক প্রকার অস্বস্তি নিয়ে ভোরবেলা
ঘুম ভাঙল আজ
গতরাতে খুব ভালো ঘুম হয়নি আমার
বেড রুমের খাটটি ছোট
আমাদের চারজনের জায়গা হচ্ছে না
খাটটি পালটানো দরকার
কিন্তু টাকা নাই!
বাসায় দুটো স্মার্টফোন-
তাই নিয়ে চার জনের কাড়াকাড়ি
আরো দুটো স্মার্টফোন না হলে আর চলছে না
কিন্তু টাকা নাই!
একটি এলটিডি টিভি আছে বটে
কিন্তু একটা স্মার্ট টিভি থাকলে বেশ হতো
বাচ্চা শুয়ে বসে কার্টুন দেখতে পেতো,
বাংলাদেশি চ্যানেলের বিজ্ঞাপনে অতিষ্ঠ হয়ে
রিমোর্ট চালিয়ে আমরা হিন্দি মুভি দেখতে পেতাম
কিন্তু টাকা নাই!
তিন তলায় দুই রুমের ভারা বাসাটাও ছোট-
ঢুকলেই শেষ হয়ে যায়-
একটা বড় বাসা না হলে আর হচ্ছে না
কিন্তু টাকা নাই!
বাসায় সব কমদামী পুরোনো ফার্নিচার
এসব বদলানো দরকার
কিন্তু টাকা নাই!
বড় মেয়েটা বায়না ধরছে- তার আলাদা রুম লাগবে
বলেছি- তোমার অষ্টম জন্মদিন উপলক্ষে
নতুন একটা বাসা নিব তোমার আলাদা রুম হবে
সেখানে তোমার জন্য আলাদা সব ফার্নিচার হবে
কিন্তু টাকা নাই!
ধার দেনা করে বাচ্চাটার পাঁচ মাসের স্কুলের বেতন দিলাম
তিন মাসের টিউশনের টাকা এখনো বাকী-
তার বার্ষিক পরীক্ষা চলছে, আগামী বছর আবার ভর্তি
নতুন বই, ড্রেস, ব্যাগ কিনতে হবে,
কিন্তু টাকা নাই!
বার্ষিক পরীক্ষার পর তার ঘোরাঘুরি
জানুয়ারিতে জন্মদিন উপলক্ষে
উপহার কিনে দিতে হবে-
কিন্তু টাকা নাই!
এসব নানা চিন্তায় রাতে ভালো ঘুম হয়নি
বিছানায় শুয়েই
বিষণ্ন মনে মোবাইল ফোনটি হতে নিলাম,
দেখলাম নানা জনের নানা পোস্ট- লেখা ও ছবি,
আজ বেশিরভাগ পোস্ট গতরাতের বস্তিতে আগুন সংক্রান্ত
একটি সংবাদ পত্রিকার ফটো কার্ড আর
তার শিরোনামে দৃষ্টি আটকে গেলো!
তারা লিখেছে -
‘আগুন-ধোঁয়া আর হাহাকার;
ঘর হারালেও টিকে থাকার লড়াই থামেনি
কড়াইলবাসীর’
দিনভর পুরে যাওয়া বস্তির নানা ছবি দেখলাম আর-
আমি মনে মনে বললাম-
“হে প্রভু- তোমার কোন কোন অবদান
আমি অস্বীকার করতে পারবো”।
—-----------
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
২৬ নভেম্বর ২৫















0 মন্তব্যসমূহ