Ticker

6/recent/ticker-posts

মহেশখালীর জলে

 

ছোট একটা স্পিডবোটে চালকসহ আমরা পৌনে ১৪ জন মানুষ ১০ জনের বেশি লোক হওয়ায় স্পিডবোর্ডের চালক শুরুতেই আমাদের তুলতে চাইছিল না কিন্তু আমরা তাকে বোঝালামআমাদের টিমের পাঁচজনই শিশু, সংখ্যা বাড়লেও ওজন বাড়বে না অনেক বোঝানোর পরে সে রাজি হলো, কিন্তু তার জন্য তাকে অতিরিক্ত আরো দুইজনের ভাড়া দিতে হবে

কক্সবাজার বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে স্পিড বোটটি যখন রওনা দিল তখন আমরা রোমাঞ্চ অনুভব করছিলাম কিন্তু কিছুক্ষণের পরেই সেই রোমাঞ্চকর অনুভূতি ভয়ার্ত অনুভূতিতে পরিণত হলো একে তো স্পিড বোটের স্পিড, দ্বিতীয়ত সাগরের বিশাল ঢেউ তারওপর উপর উলটো দিক থেকে আসা স্পিড বোর্ডের ঢেউয়ের ধাক্কায় আমাদের স্পিডবোটটি মনে হচ্ছে পানির উপর লাফাচ্ছে


ইংরেজিবর্ণের মতো রেখা টেনে জলের বুকে চিৎকার করতে করতে এগিয়ে চলছে আমাদের যান্ত্রিক তরী আর সাগর ভেবে যে জলস্তরের উপর আমরা ভেসে চলছি- তা মূলত সাগর নয়, একটি প্রশস্ত খাল বা চ্যানেল মহেশখালী চ্যানেল নামে পরিচিত এই জলরাশির একপাশে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, অন্যপাশে লোকালয় জলের ধার ঘেঁষে বিশাল অঞ্চল নিয়ে বেরিবাঁধ তার ওপর অনেকগুলো প্রায় একই ডিজাইনের নির্মিত সরকারি ভবন পরে জানলাম এগুলো সরকারেরখুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পেরবাড়িঘর

বিকেলের রোদ ঢেউয়ের ভাজে ভাঁজে রুপার মতো ঝিকমিক করে উঠছে মাঝে মাঝেই দুই একটি সাম্পান নৌকা বিপরীত দিক থেকে আমাদের অতিক্রম করে যাচ্ছে দূরে উইন্ডমিলের বিশাল পাখা গুলো ঘুরছিল ধীরে ধীরে তখন মনে হচ্ছিলএই মুহূর্তে আমাদের হৃৎপিণ্ডের সাথে যদি উইন্ডমিলের কেবল সংযোগ করা যেত- তাহলে প্রত্যেকের হৃৎপিণ্ডের যে গতিসেই গতিতে উইন্ডমিলগুলো আরো বেশি দ্রুত ঘুরবে


চারিদিকে অপার্থিব সৌন্দর্য একেই বুঝি বলেভয়ংকর সুন্দর’! কেউ মুখে না বললেও সবার চেহারা দেখে বিশেষত, আমাদের গিন্নিদের চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছিল তারা খুব ভয় পাচ্ছে মনে মনে দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে দুপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করছে সবাই অবশ্য আমরা বড়রা একটু বেশি ভয় পেলেও ছোটরা খুব বেশি ভয় পায়নি আর সবচেয়ে কম ভয় পেয়েছে আমার কোলে থাকা তাসনিয়া নূর রিমঝিম বয়স তার মাত্র ১৫ মাস! এই বয়সেই সে কক্সবাজার ঘুরতে চলে এসেছে! ঢেউয়ের দুলনীতে এক ফাকে ঘুমিয়েও নিয়েছে সে তার মতো তার বড় বোনেরও এটা প্রথম সাগর দেখা ছিল

আমাদের মনের যখন এই অবস্থা, তখন স্পিড বোর্ড চালকের চেহারায় নেই কোনো ভয় বা আনন্দের অনুভূতি আমার মনে হলো মঙ্গলগ্রহের কোনো এক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের মতো এত নিরুত্তাপ মানুষ কাছ থেকে এই প্রথম দেখলাম আমি লাইফ রিস্কে ছিল তাই- স্পিডবোটে ছবি ওঠানোর তেমন সুযোগ পেলাম না


অবশেষে কোনো ধরনের বিপদ-আপদ ছাড়াই আমাদের ছোটো তরী মহেশখালী আদিনাথ ঘাটের জেটির পাশে সেখানেও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরো কিছুবিরক্তিকর কিন্তু দারুণঅভিজ্ঞতা

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

২০ নভেম্বর ২৫

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ