Ticker

6/recent/ticker-posts

পূর্ণিমার রাতে তিতাসের বুকে কবিতা পাঠের আসর


মনে হলো— খুকি তার কপাল থেকে টিপটা খুলে রাখল পড়ার টেবিলে। তারপর রং পেন্সিলের বাক্স থেকে খুঁজে নিল মিষ্টি একটি রং। আলতো হাতে পেন্সিল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে উজ্জ্বল রং করে দিল কালো টিপটাকে। বাহ্, বেশ সুন্দর লাগছে তো! টিপটিকে টেবিল থেকে তুলে নিয়ে টুক করে লাগিয়ে দিল আকাশের গায়ে। খুকির হাতের ছোঁয়ায় টিপ হয়ে উঠল পূর্ণিমার চাঁদ।





তারপর খুকি তার ছবি আঁকার খাতা থেকে ছিঁড়ে নিল একটি সাদা কাগজ। তার নরম হাতে একের পর এক ভাঁজ করতে লাগল কাগজের টুকরোটিকে। সাধারণ কাগজের টুকরোটি একসময় হয়ে উঠল চমৎকার একটি নৌকা। আর সেই নৌকাটি ভাসিয়ে দিল তিতাসের জলে।




অমন সুন্দর নৌকা দেখে আর কি ঘরে থাকা যায়! তাই তো আমরা একে একে উঠে পড়লাম নৌকার ছইয়ের ওপর। দেখলাম, মনে হলো— ওই যে হাল ধরে দাঁড়িয়ে আছে যে ছেলেটি, সে তো আর কেউ নয়— অদ্বৈত, আমাদের অদ্বৈত মল্লবর্মণ। তার নৌকায় হবে আজ আমাদের আনন্দভ্রমণ।


দেখলাম, মনে হলো— মাঝখানে আসন পেতে বসে আছেন এক বৃদ্ধ পুরুষ। মুনি-ঋষি, নাকি পীর-ফকির— তা বোঝা গেল না। তবে তাঁর চারপাশে হারমোনিয়াম, তবলা আর বাঁশি নিয়ে বসে আছেন আরও কয়েকজন। মনে পড়ল, তিনি তো আমাদের বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। ওই তো তাঁর হাতে শোভা পাচ্ছে একটি বিস্ময়কর বাদ্যযন্ত্র— সরোদ।


কিশোর অদ্বৈত ভাসিয়ে নিয়ে চলল আমাদের নৌকাটি। একসময় নৌকার অপর প্রান্তে ছোট্ট সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে দেখলাম আরেকজন যুবককে। আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন— ‘পকেট থেকে খোলো তোমার পদ্য লেখার ভাঁজ।’ কে ভাই আপনি? তিতাসেরই আরেক কবি আল মাহমুদ নাকি? হ্যাঁ, তাই তো! তিনিও এসেছেন আজ আমাদের কবিতার আসরে।





নৌকা এগিয়ে চলল উত্তর থেকে দক্ষিণে। একপাশে জনপদ, অন্যপাশে ছোট গ্রাম, শুকনো বিল। তার মাঝখান দিয়ে ধীরগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের তরী। অনতিদূর থেকে ভেসে আসতে লাগল কখনো আজানের সুর, কখনো মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি।







মাথার ওপর থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে খুকির লাগানো টিপ-চাঁদের সোনালি আলো। আর সেই আলোর আভায় একে একে কবিতা পাঠ করতে লাগলাম আমরা। আমাদের কবিতা শুনে নিজেদের পাখা ঝাপটিয়ে দিয়ে অভিবাদন জানাল একঝাঁক উড়ন্ত পাখি। বাড়ি ফেরার কথা ভুলে যারা এতক্ষণ উড়ছিল আমাদের মাথার ওপর। আমাদের অভিনন্দন জানাতে জানাতে পাশ দিয়ে এগিয়ে গেল কয়েকটি ছোট-বড় নৌকা।




ধন্যবাদ কবি সৈম আকবর ভাই, চমৎকার আয়োজন করার জন্য। আমার অনেক দিনের লালিত একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ধন্যবাদ তিতাসের কবি জয়দুল হোসেন স্যার—আপনি এসে এই আয়োজনকে পূর্ণতা দিয়েছেন।



অন্যান্য ভ্রমণসঙ্গী কবি আমির হোসেন স্যার, কবি এম. এ. হানিফ স্যার, কবি শৌমিক সাত্তার ভাই, কবি কাজী বর্ণাঢ্য ভাই, কবি মোহন্ত কাবেরী ভাই, কবি এস এস ইউনুছ ভাই, কবি মাশরেকী শিপার ভাই, কবি রুদ্র মো. ইদ্রিস ভাই, কবি নুরে আলম চৌধুরী ভাই, কবি ইসলাম তারেক— সবাইকে ধন্যবাদ, দারুণ সঙ্গ উপহার দেওয়ার জন্য।----আর নৌকা পর্যন্ত এসে চাকিরর জন্য ফিরে যাওয়া কবি হেলাল উদ্দিন হৃদয় ভাইয়ের জন্য একগাদা সমবেদনা।


পূর্ণিমার রাতে তিতাসের বুকে কবিতা পাঠের আসর

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬



 
















একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ