Ticker

6/recent/ticker-posts

আশুগঞ্জ সার কারখানা ভ্রমণ (পর্ব-২)


আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড- প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (পূর্ব নাম জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড) দেশের অন্যতম ইউরিয়া সার কারখানা। যেটি ‘আশুগঞ্জ সারকারখানা’ নামে অধিক পরিচিত। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলায় মেঘনা নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত একটি অত্যাধুনিক সারকারখানা। রাজধানী ঢাকা থেকে এর অবস্থান প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। 


ইউরিয়া সার তৈরির প্রধান উপাদান হলো গ্যাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস থেকে গ্যাসের সহজলভ্যতা এবং সারা দেশের সঙ্গে রেল, সড়ক এবং নদীপথে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা বিবেচনা করে সরকার আশুগঞ্জে এই কারখানা নির্মাণের স্থান নির্বাচন করে।


দেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় আশুগঞ্জে একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 


কারখানাটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রো কেমিক্যাল প্রযুক্তির লাইসেন্সিং এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়া উন্নয়নের জন্য একটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘সায়েন্টিফিক ডিজাইন কোম্পানি’ এবং ‘জেমস কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে’ এ প্রকল্পের জন্য কারিগরি পরামর্শদাতা নিয়োগ করে।  

   
সরকার একই বছর অক্টোবর মাসে শিল্পমন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি (এ.এফ.সি.সি)’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করে। শুরুতে এ কারখানা একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি রূপে যাত্রা শুরু করে। 

১৯৭৪ সালের ৭ অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিনেল কর্পোরেশনের’ সাথে প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের চুক্তি সম্পাদিত হয়। এর পরের বছর ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি ড্রেজিং এর সাহায্যে মাটি ভরাটের কাজ আরম্ভ হয় এবং অক্টোবর মাসে শেষ হয়।

মাটি ভরাটের পর ১৯৭৬ সালে কারখানার নির্মাণ কাজ শুরু হবার কথা থাকলেও মৃত্তিকা জটিলতা এবং আরও কিছু আনুষঙ্গিক সমস্যার কারণে নির্মাণ কাজ শুরু করতে প্রায় দু’বছর দেরি হয়ে যায়। জানা যায়, প্রাথমিক প্রাক্কলিত সময়সূচি অনুযায়ী কোম্পানিটির নির্মাণ কাজ ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও ১৯৮০ সালের অক্টোবরে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।


ব্রিটেনের ‘ফস্টার হুইলার লিমিটেড’ কারখানার সাধারণ ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইতালি, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ভারত, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড ও কানাডাসহ পৃথিবীর বহু দেশ থেকে কারখানার মেশিনপত্র এবং নির্মাণ সামগ্রী আনা হয়। নির্মাণকালে প্রায় ২০০ বিদেশি কারিগরসহ দৈনিক প্রায় ৮,০০০ (আট হাজার) লোক কাজ করে বলে জানা যায়।


বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, কেএফ ডব্লিউ (জার্মানি), ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি (ইউ.কে), ইরান, সুইজারল্যান্ড, ইফাদ, ওপেক ও ইইসি প্রকল্পের জন্য ঋণদান করে। ৩৫০.১৮ কোটি টাকা দেশীয় মুদ্রাসহ মোট ৭৫৭.৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আশুগঞ্জ সারকারখানা নির্মাণ করা হয়।


১৯৮১ সালের ১৫ ডিসেম্বর কারখানার পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু নানাবিধ যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য কারখানা স্থিতিশীল উৎপাদনে পৌঁছাতে পারেনি। ১৯৮৩ সালের জুলাই মাস থেকে এই কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। 


১৯৮৩ সালের নভেম্বর মাসে কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ফস্টার হুইলারের সাথে চুক্তি বাতিল করে। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালের ১ ডিসেম্বরে সরকার কর্তৃক এই কারখানার ব্যবস্থাপনার ভার বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এর উপর অর্পণ করা হয়।


এর আগে মরহুম রাষ্ট্রপতি, শহিদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর নামানুসারে ১৯৮১ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যন্ড কেমিক্যাল কোম্পানি (এ.এফ.সি.সি)-এর নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ হিসেবে নামকরণ করে। 

                                       
পরবর্তীতে ২০১০ সালের ১ জুলাই তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক (ECNEC) এর সভায় এই কারখানার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উত্থাপিত ও অনুমোদন করা হয়। একই সভার সিদ্ধান্ত সার কারখানাটির নাম পুনরায় পরিবর্তন করে পূর্ব নাম ‘আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এ.এফ.সি.সি.এল)’ করা হয়।


---------
আশুগঞ্জ সার কারখানা ভ্রমণ (পর্ব-২)
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
১৬ জুন ২০২৬, ভোর ৪:৪০

তথ্যসূত্র :
* কম্পানির নিজেস্ব ওয়েব সাইট। 
* তিতাসপাড়ের ইতিকথা, শোয়েব চৌধুরী সম্পাদিত
* গুগুল ও উইকিপিডিয়া।
*  কথোপকথন : পরিরুল আলম (এমপ্লয়ি, এ.এফ.সি.সি)

---------
এই লেখার প্রথম অংশ পড়তে এই লিংক প্রবেশ করুন।
https://www.facebook.com/share/p/1DfGzfyXDp

ব্লগে পড়তে এই লিংক প্রবেশ করুন।
https://mishrabon.blogspot.com/2026/09/blog-post.html


তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম পর্ব আসছে....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ