সমগ্র দেশটাই যেন আজ এক পলাশীর প্রান্তর
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
স্বাধীন চেতা মানুষের বুকে গোপনে ধেয়ে আসা
রবাট ক্লাইভের খঞ্জর আলিঙ্গন করে নিল
কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ।
একটি স্বাধীন ভূখণ্ড বিষাক্ত হয়ে উঠলো —
একদল কুলাঙ্গারের বিশ্বাসঘাতকতার নিশ্বাসে
ইতিহাস তাদের নাম দিয়েছে —
মীরজাফর, জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ, ইয়ার লতিফ,
রায় দুর্লভ, মিরন, কৃষ্ণচন্দ্র ও ঘসেটি বেগম বলে।
তারপর বাংলা বিহার উড়িষ্যার মুক্ত পতাকা
মলিন হতে হতে একসময় নেমে গেলো
শীর উঁচু করা খুঁটি থেকে।
একটি আমের বাগান সাক্ষী হয়ে রইল
কয়েক শতাব্দীর মহা প্রহসনময় এক যুদ্ধের।
যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী —
পদ্মা ও মহানন্দার জল বয়ে চলে
ভিনদেশিদের হাতে দেশ-মাকে বিক্রয় করে দেওয়া
সে সকল কুলাপাংশুল সন্তানগুলোকে
মানুষ মনে রাখে ঘৃণার ভরে।
শ্রদ্ধায় স্মরণ রাখে কেবল —
দেশ মায়ের স্বাধীনতা, ইজ্জত-আভ্রু রক্ষা করার জন্য
জীবন উৎসর্গকারী সিরাজ-উদ-দৌলা,
মীর মদন, কিংবা মোহনলালকে।
ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে —
ফিরে আসে বিশ্বাসঘাতকদের প্রেতাত্মা!
প্রতিটি প্রজন্মে জন্ম নেয় নতুন কোনো মীরজাফর
তার তাদের প্রতিরোধ করতে যুগে যুগে জেগে থাকে —
শত শত দেশপ্রেমিক প্রাণ।
সমগ্র দেশটাই আজ এক আম্রকানন—
উন্মুক্ত পলাশীর প্রান্তর।
----
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
১২ জুন ২৬

0 মন্তব্যসমূহ