Ticker

6/recent/ticker-posts

আসুন নিজে বই পড়ি, প্রজন্মকে বই পড়ায় উৎসাহ দেই এবং বই কিনি


ছোটবেলায় বই পড়ার প্রচুর শখ ছিল। শখ না বলে বরং নেশা বলাই ভালো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাতের কাছের তখন পর্যাপ্তসংখ্যক বই ছিল না। সহপাঠী, বন্ধু, বড় ভাইবোনদের পড়ার টেবিলে আগে থাকা নানা রকম বই পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন ধার করে এনে পড়তে হতো। সিঙ্গারা, পুরি, পেঁয়াজু মুড়িয়ে দিত যে পত্রিকার ছেঁড়া টুকরো বা ঠোঙা দিয়ে সেই পত্রিকার সম্পূর্ণ কিংবা অসম্পূর্ণ বাক্যগুলোও পড়েছি বলে, মনে পড়ে। এখন আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহেই কয়েক হাজার বই-পত্রিকা বা ম্যাগাজিন আছে। এছাড়াও দুর্দান্ত কালেকশন আছে এমন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ বা গ্রন্থাগার আছে হাতের কাছেই। কিন্তু আগের মতো পড়ার নেশাও নেই, সময়ও নেই।


ছোটবেলায় বই পড়তাম, তখন পড়ার কোনো বাছ-বিচার ছিল না। ক্লাসিক্যাল বা চিরায়ত সাহিত্য সম্পর্কে যেমন জ্ঞান ছিল না, তেমনি সাধারণ বই সম্পর্কেও কোনো ধারণা ছিল না। কোনটা পড়তে হবে কোনটা পড়তে হবে না এই নিয়ে টেনশন ছিল না। হাতের কাছে যা পেয়েছি তাই পড়েছি। এখন বই খুব বেশি বই না পড়লেও যা পড়ি তা বেছে বেছে পড়তে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লেখালেখির জন্য সহায়ক, রেফারেন্স বইগুলো পড়ার চেষ্টা করি। প্রিন্টেড বই ছড়াও পড়ালেখার অন্যতম এখন প্লাটফর্ম এখন অনলাইন মাধ্যমগুলো। আগে গল্প, উপন্যাস, ছড়া, ভ্রমণ কাহিনি, অ্যাডভেঞ্চার, রহস্য, কিংবা সাইন ফিকশন পড়লেও প্রবন্ধ পড়তাম না মোটেই। আর এখন প্রবন্ধই বেশি পড়া হয়।



২৬ বছর আগে, চোখের উপর চশমা লেগেছে ২০০০ সালে। চশমা ছাড়া চোখে কম দেখি- এই কথা যখন আশেপাশের মানুষের কাছে জানাজানি হল তখন বাবা-মাসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ জনের বক্তব্য ছিল- অতিরিক্ত বই পড়ার কারণেই চোখ নষ্ট হয়েছে। অবশ্য এই কথা তারা আগেই বলতো যে সারাক্ষণ এভাবে বই নিয়ে পড়ে থাকলে চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু বই পড়ার নেশা যাদের একবার পেয়ে বসে খুব সহজে তা কাটিয়ে ওঠা মুশকিল। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। বই পড়লে চোখের আলো কমে যায়, এটা তখনও বিশ্বাস করতাম না, এখনো করি না।

আমাদের ছোটোবেলায় যতটুকুই হোক, আমরা কিছু পড়েছি বা এখনো পড়তে চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের এই প্রজন্মতো ভীষণভাবে বইবিমুখ। বই পড়েও আমরা আলোকিত মানুষ হতে পারেনি। বই না পড়ে আমাদের প্রজন্ম মানুষ হবে কিভাবে? আসুন নিজে বই পড়ি, প্রজন্মকে বই পড়ায় উৎসাহ দেই। নিজে বই কিনি, অন্যকে বই উপহার দেই।

আজ বিশ্ব গ্রন্থ ও গ্রন্থস্বত্ব দিবস। যারা বই পড়েন, বই ভালোবাসেন তাদের জন্য জানাই অনেক শুভকামনা। এই শুভকামনাটা বরাদ্দ শুধু আপনাদের জন্যই, কারণ আমি জানি বই পড়ার জন্য আপনারা কি পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

২৩ এপ্রিল ২৬


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ