Ticker

6/recent/ticker-posts

তিনি নামেও নূর- বিলিয়েছেনও নূর।

তিনি নামেও নূর- বিলিয়েছেনও নূর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুন নূর স্যারের পঞ্চম মৃত্যু বার্ষিকী আজ।

প্রফেসর আবদুন নূর স্যার সত্যিকার অর্থেই ছিলেন সূর্যের মতো দীপ্তমান একজন মানুষ। আজীবন ছিলেন জ্ঞানতাপস। সারাজীবন শিক্ষকতা করা এই মানুষটি জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছেন লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে। আবদুন নূর স্যারের পরশ যারা পেয়েছেন তাদের বেশিরভাগই আজ সমাজের আলোকিত মানুষ হতে পেরেছেন।

রত্নগর্ভা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর গ্রামে ১৯৪৯ সালের ৩০ জুলাই (শিক্ষা সনদ অনুসারে) মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা মো. মিলন মিয়া, মাতা আমেনা বেগম। ছোটবেলা থেকেই জ্ঞান অর্জনে ব্যাপক আগ্রহী আবদুন নূর নিজ গ্রামের বিটঘর রাধানাথ হাই স্কুল থেকে ১৯৬৬ সালে কৃতিত্বের সাথে এস. এ. সি. পাশের পর ভর্তি হন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার শ্রীকাইল ডিগ্রী কলেজে। এই কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য পরবর্তীতে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে ইংরেজি সাহিত্য বি. এ. অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করার পর কর্মজীবনে প্রবেশ করেন তিনি। জ্ঞানব্রতী এই ব্যক্তি কর্মজীবনে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। আজীবন তাই করে গেছেন।

প্রফেসর আবদুন নূর কর্ম জীবনের শুরুতেই ১৯৭৯ সালের ১০ অক্টোবর নোয়াখালি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে এই কলেজ জাতীয়করণ করা হলে তিনি সেখান থেকে বদলি হয়ে ১৯৮৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর সরকারি কলেজে ইংরেজির প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ, হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ও রাজশাহী সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনি একজন জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। চাকরি জীবনে তিনি নবীনগর সরকারি কলেজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবেও যথার্থতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার চৌমুহনী সালেহ আহমেদ সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। এবং ঐ কলেজে কিছুদিন চাকরি করার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবন শেষে তিনি ২০০৬ সালের ২৭ জুলাই তিনি অবসরে যান।

প্রফেসর আবদুন নূর একসময় শিক্ষকতা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে। অধ্যাপনার পাশাপাশি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠক ছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি তৈরি করেছেন অসংখ্য ছাত্র ও সংগঠককে। পরবর্তীতে এই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে সফলতা সাথে নিজের কর্মজীবন সমাপ্ত করেন তিনি।

ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ও শিক্ষক হলেও বাংলা সাহিত্যে স্যারের ছিল অগাধ জ্ঞান, অবাধ বিচরণ। পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতিতে ছিল তাঁর ব্যাপক উপস্থিতি। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকাশে তাঁর রয়েছে অসামান্য অবদান। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে শিক্ষকতা জীবনে প্রফেসর আবদুন নূর স্যারের লেখা নানা গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্য, নাটক এবং কয়েক ডজন ইংরেজি কবিতার অনুবাদ জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে স্যারের বেশ কিছু বই। যার মধ্যে ‘দিনে দিনে আমি, লবণ সমুদ্র, ভ্যানেটি ব্যাগ, নাম দিবেন আপনি, ডিনার সেট অন্যতম।

এ ছাড়াও নাটকেও নূর স্যার ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তিনি নাটক রচনা করেছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন, নিজেও করেছিলেন সুনিপুণ অভিনয়। তার নাটকগুলো হল আক্কাস আলীর আগামীকাল, কুয়াশা কান্না' জনতার সামনে, জীবনের লেনা-দেনা, লাল গোলাপের জন্য, সূর্য কতুডুবে না- ইত্যাদি। নবীনগরের বহুল আলোচিত নাট্য সংগঠন 'ব্যতিক্রম থিয়েটার' স্যারের লিখা বেশ ক'টি নাটক মঞ্চস্থ করেছেন বলে জানা যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন সংগঠন প্রফেসর আবদুন নূর-এর অসংখ্য নাটক মঞ্চস্থ করেছে। একজন সুবক্তা হিসেবেও তার সুখ্যাতি ছিল সারা দেশ জুড়ে। বক্তৃতায় অসাধারণ পারদর্শী ছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য কেউ একবার শুনতে শুরু করলে সে মন্ত্রমুগ্ধর মতো শুনেই যেতো। একজন গুণী শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন সুপরিচিত ছিলেন, তেমনি ছিলেন ছাত্রবান্ধব রসিক শিক্ষক হিসেবে।

প্রফেসর আবদুন নূর স্যারের প্রাক্তন ছাত্র, নবীনগরের বিশিষ্ট লেখক আব্বাস উদ্দিন হেলাল তার শিক্ষক আবদুন নূরকে নিয়ে একটি স্মৃতিচারণমূলক লেখায় স্যারের রসিকতার উল্লেখ করে বলেন- “সেই ১৯৯০-৯১ সালের কথা। আমাদের সৌভাগ্য যে, প্রফেসর আব্দুন নূর স্যারের মতো একজন শিক্ষক আমরা নবীনগর সরকারি কলেজে পেয়েছিলাম। স্যার আমাদের ইংরেজি পড়াতেন। ইংরেজি সাহিত্য যে, এতো মজার স্যারের ক্লাস না করলে- জানা হতো না।

একদম খোলামেলা কথা বলতেন স্যার। ছিলেন দারুণ রসিক প্রকৃতির মানুষ। পড়ানোর আগে বলতেন, গল্পের রস না বললে ক্লাস করে মজা পাবি না। যা বলবো, যা পড়াবো, তা- মনোযোগ সহকারে শুনবি।


স্যার একদিন 'গিফট অব দ্যা মেজাই' গল্পটি আমাদের পড়াচ্ছিলেন। পড়ানোর শুরুতেই বললেন, শোন- আবিয়াত্তা বেডাইয়েতের চোখে সব বেইলাপাইনই সুন্দর। অতোদিন ছিলি এক পরিবেশে, অহন আইছস আরেক পরিবেশে। অতো বেইলাপাইনের দিকে চাইস না, তাইলে চোখে আউলা ঝাউলা দেখবি, কাউড়ি লাগবো।

স্যারের রসিকতায় আমরা হাসতে হাসতে শেষ! আজও স্যারের রসিক সংলাপ কানে ভাসে। স্যারকে কী মনে রেখেছি- আমরা? ”

প্রফেসর আবদুন নূর মেধা-মননে, চিন্তা-চেতনায়, চলনে-বলনে, কর্মে ও ধর্মে, আচার-আচরণে তিনি সত্যিকার অর্থেই ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ। কর্মগুণে নিজের নামকে তিনি যথার্থ প্রমাণ করেছেন। তিনি নামেও নূর, বিলিয়েছেনও নূর।

আজীবন সংগ্রামী আবদুন নূর স্যারকে অসুস্থতার সাথে যুদ্ধ করতে হয়েছে বারবার। ছোটবেলা থেকেই অসুস্থতার কারণে স্যারের পায়ে সমস্যা ছিল। এজন্য তাঁকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হতো। এই সমস্যা নিয়েই সারা জীবন চলেছেন এবং জয় করেছেন জীবনের সকল প্রতিকূলতাকে। জয় করেছেন মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন- পায়ের সমস্যার কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করতে পারাটা ছিল তাঁর আজীবন আক্ষেপ।

ক্যানসার ধরা পড়ার কারণে মৃত্যুর ১০ বছর আগে মুখে দুই বার অপারেশন করতে হয়েছিল এবং চোয়ালের একটি অংশ ফেলে দিতে হয়েছিল। তারপর থেকে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারতেন না তিনি। স্যারের একমাত্র ছেলে কনক সাত-আট বছর আগে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। নিজের শারীরিক অসুস্থতা আর একমাত্র পুত্র হারানোর মানসিক বিষণ্নতা- সব মিলিয়ে ঘর বন্দী ছিলেন অনেক বছর। আর এসব কারণেই তাঁর জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল অনেক সোনালি সময়। তা না হলে আমরা স্যারের জ্ঞান ও প্রতিভার আলো আরো কিছুদিন পেতে পারতাম।

শ্রদ্ধেয় আবদুন নূর স্যার সম্পর্কে আমার খুব বেশি বলার সুযোগ নেই। কারণ আমি স্যারের সাহচর্য পেয়েছিলাম খুব অল্প সময়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হতে পেরেছিলাম স্যারের সহযোগিতার কারণে একেবারে স্যারের দায়িত্বকালীন শেষ সময়ে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভর্তি হয়েছিলাম স্যারের কারণেই। প্রায় এক যুগ পূর্বে (২০০৮ সালে) তিনি আমার লেখা কিছু কবিতা সংশোধন করে দিয়েছিলেন। স্যারের কাটা ছেঁড়া ও স্বাক্ষর করা পৃষ্ঠাগুলো আজও আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। আমাদের আয়োজন করা প্রথম অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। যে অনুষ্ঠান ছিল আবার আমার জীবনের প্রথম উপস্থাপনা।

আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জনাব ওসমান গনি সজীব স্যারের মাধ্যমে নূর স্যারের বাসায় অনেকবার গিয়েছি। নূর স্যার প্রায়ই বলতেন "সজীব হচ্ছে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন, আমার সেরা ছাত্র "। সজীব স্যারের কল্যাণেই একসময় খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা হয়ে গিয়েছিলো নূর স্যারের সাথে। মাঝে মাঝে একাই চলে যেতাম স্যারের বাসায়। নানা বিষয়ে স্যারের মূল্যবান কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে আসতাম। উদ্‌গ্রীব থাকতাম, আবার কবে যাবো। কিন্তু দুঃখের বিষয় জীবনের ব্যস্ততায় আর নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নূর স্যারের সাথে বেশিদিন আর যোগাযোগ রাখতে পারিনি। অথচ স্যার থাকতেন এই শহরেই।

স্যারের অসুস্থতার পর সাত-আট বছর আগে মাঝে মাঝে নূর স্যারের সাথে শহরের নানা জায়গায় দেখা দেখা হতো। স্যারকে সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে বলতাম, স্যার আমাকে চিনতে পারছেন? অস্পষ্ট উচ্চারণের স্যার বলতো ‘কেন চিনবো না, তুমি আমার স্নেহের ছাত্র মনির। আহ্ কত অকৃতজ্ঞ আমি! প্রিয় স্যারের স্নেহের মান ধরে রাখতে পারিনি। ঠিক থাক ভাবে স্যারের খোঁজ নেইনি। আমার এই অপরাধের ক্ষমা আর কোনোদিন স্যারের কাছ নেয়া হবে না।

২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোর পাঁচটায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই কীর্তিমান পুরুষ। সেদিন নূর স্যারের মৃত্যু সংবাদ শুনে পুরো শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। একে একে আত্মীয়, সহকর্মী, ছাত্র-শিক্ষক, ভক্ত-অনুরাগী ও এলাকাবাসীরা শেষ দেখা দেখতে আসতে থাকে মরহুমের বাসায়।

স্যারের মৃত্যুর খবর পেয়ে সকাল সাতটার দিকে ছুটে গিয়েছিলাম শহরের দক্ষিণ মৌড়াইল ৮১৮, ‘একটু ছায়া ভবনে। দেখলাম স্যারের নিথর দেহ শুয়ে আছে বিছানায়। একটি ১০/১১ বছরের বালক ছাড়া আশেপাশে আর কেউ নেই। বাড়িটি নীরব। কান্নার স্বর থেমে গিয়েছিল সম্ভবত আমি আশার আগেই। পাশের রুমে থেকে ভেসে আসছিল পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের শব্দ। কিছুক্ষণ পর স্যারের মেয়ের জামাতা এলে তার সাথে পরিচিত হলাম।


একটু পরে মোড়াইলে এক পরিচিত ভাই এলো। তিনি জানালেন, স্যারের প্রয়াত ছেলের বন্ধু তিনি। খবর পেয়ে তারা ভোরেই স্যারের বাসায় এসেছিল। ফজর নামাজের পর প্রতিবেশীরা ও স্থানীয়রা লাশ দেখে গেছে। এবং এখানের প্রয়োজনীয় কাজ সেরে কবর খোঁড়া, কাফন ও দাফনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সে ভাই চলে গেলেন কবর খোঁড়াসহ অন্যান্য কাজের খোঁজ নিতে। আমি আরো কিছুক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করলাম। পাশে থাকা একটি কাঠের আলমারিতে বাসার নানা জিনিসপত্রের সাথে বেশ কিছু বই। এর মধ্যে স্যারের লেখা বইগুলোও আছে। আলমারির ভাঙা কাচ ভেদ করে আমি বইগুলো বের করে বইয়ের কভার ও ব্যাক পেজের ছবি তুললাম। ছবি তোলার পর বইগুলো যথাস্থানে রেখে আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। স্যারের লাশ একা রেখে আসতে মন চাইছিল না। সকাল সারে ১০টা নাগাদ আরো লোকজন আসতে শুরু করলে আমি চলে এলাম জানাজা নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিতে।

স্যার যেহেতু দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তারালে ছিল, স্যারের রিসেন্ট ছবি সবার কাছে ছিল না। বাসায় এসে স্যারের বইয়ের ব্যাক পেজের লেখক পরিচিতেতে ছাপা একটি ছবি, আমার ভোরে দেওয়া ফেসবুক পোস্টের সাথে সংযুক্ত করে দিলাম। পরবর্তীতে অসংখ্য মানুষ সেই ছবিতে নিজের পোস্টে ব্যবহার করেছে, এখনো করে। যা আমাকে ভালো লাগা জোগায়।

বাদ জোহর তাঁর শেষ কর্মস্থল ও প্রিয় প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজের প্রাক্কালে স্মৃতিচারণ করে শোক অনুভূতিই ব্যক্ত করেন শহরের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নবীনগর থেকে আসা স্যারের আত্মীয়, বন্ধু ও সহকর্মীগণও বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইংলিশ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পরে মোড়াইল কবরস্থানে মরহুমের একমাত্র ছেলে কনকের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। প্রায় কয়েকশত লোক জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, কন্যা-জামাতাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মহান আল্লাহতালার কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সকলের প্রিয় শিক্ষককে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আমিন।


বিশেষ দ্রষ্টব্য : স্যারের লাশ দেখে আসার পর স্যারের বইয়ের প্রচ্ছদগুলোসহ একটি স্মৃতি চারণমূলক লেখা ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম। প্রতিবছর প্রফেসর আবদুন নূর স্যারের মৃত্যু দিবসে সেই লেখাটি ফেসবুক পোস্ট দেই। প্রতিবছরই লেখাটি আপডেট করি। সেই লেখাটি বড় হতে হতে এতটুকু হয়েছে। এ বছর স্যারের শিক্ষা জীবন ও কর্ম জীবন নিয়ে নতুন বেশ কিছু তথ্য সংযুক্ত করতে পেরেছি। কয়েকটি নতুন ছবিও সংযুক্ত করেছি। ইচ্ছে আছে প্রফেসর আবদুন নূর স্যারের পূর্ণাঙ্গ জীবনী লেখার।

স্যারের ছেলে সন্তান নেই। আমরা যারা নূর স্যারের ছাত্র, ভক্ত বা গুণ মুগ্ধ তারাই স্যারের উত্তর প্রজন্ম। আমরাই আমাদের লেখার মাধ্যমে প্রফেসর আবদুন নূর স্যারের জীবন ও কর্মকে জীবিত রাখতে সচেষ্ট হবো। তাই নূর স্যারকে নিয়ে যাদের কাছে বিভিন্ন তথ্য, ছবি রয়েছে, স্যারের সাথে যাদের নানা স্মৃতিচারণ রয়েছে তারা সেসব এই পোস্টে কমেন্টস করতে পারেন। আগামী বছর আপনাদের থেকে নানা তথ্য নিয়ে এই লেখাটি আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।


দোয়া ও সহযোগিতা কামনায়

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা :

* প্রফেসর আবদুন নূর (কথোপকথন ও স্মৃতি)

* ওসমান গণী সজীব (প্রফেসর আবদুন নূর স্যারের প্রিয় ছাত্র ও আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, যার মাধ্যমে নূর স্যারের সঙ্গ পাওয়ার সৌভাগ্য পেয়েছিলাম।

* তিতাস পাড়ের গল্প, সম্পাদনা : আমির হোসেন, পৃষ্ঠা : ১৯০

* আব্বাস উদ্দিন হেলাল : ফেসবুক পোস্ট : ২৯ ডিসেম্বর ২৫

* নূর স্যারের মেয়ে ও মেয়ের জামাত।

    
                      

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ