Ticker

6/recent/ticker-posts

অবকাশ পার্কের অবস্থিত স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া নিয়ে বিরক্তি ও বিড়ম্বনা এবং সমাধান


 
প্রতিবছর বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবকাশ পার্কের অবস্থিত স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়া নিয়ে বিরক্তি ও বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়। শুরুতে এই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও রাষ্ট্রীয় সালাম ও ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর পরে যখন বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভিড় লেগে যায়। তখন একদল যখন শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধের উপরে অবস্থান করেন সে সময় ফুল দেওয়া এবং ছবি তোলা নিয়ে বেশ কিছু সময় ব্যয় হয়। একই সময় আরও অসংখ্য প্রতিষ্ঠান-সংগঠন ফুল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ফলে নিচে থাকা ব্যক্তিরা বিরক্ত হন। আবার তারা যখন স্মৃতিসৌধের বেদিতে ওঠেন তারাও একই কাজ করে অপরদের বিরক্তির কারণ হন।


১. ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আসা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত ভিড়ের সময় স্মৃতিসৌধের সামনের অংশ ছাড়াও উত্তর এবং দক্ষিণের অংশে দিয়েও ফুল দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে বা উৎসাহিত করা যেতে। প্রতি দল শ্রদ্ধা জানানো এবং ছবি তোলার জন্য অতিরিক্ত সময় না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা যেতে পারে। তাছাড়া যারা স্মৃতি সৌধে একক ছবি তুলতে চান জন্য কয়েক ঘণ্টা পরে ভিড় কমলে আসা উচিত।


২. স্মৃতিসৌধে দেওয়া অসংখ্য ফুলের তোড়া সকাল ১১/১২টার মধ্যেই স্থানীয় শিশুরা ভেঙে-চুড়ে লুটপাট করে নষ্ট করে ফেলে। এ সময় অনেকেই জুতা পায়ে শহিদ বেদিতে ওঠেন। ছোটদের সাথেও বড়োরাও এই কাজ করেন। বিষয়টি খুবই দৃষ্টিকটু। শ্রদ্ধা জানানো ফুলের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ সন্ধ্যা পর্যন্ত স্মৃতিসৌধের রাখা উচিত। যারা দুপুর বা বিকেলে শ্রদ্ধা জানাতে চান তারাও যেন সুযোগ পান, সেটি নিশ্চিত করা উচিত। এবং সারাদিন এখানে আগত দর্শকরা ফুলসজ্জিত স্মৃতি দেখতে পারেন, সেগুলোর ছবি তুলতে পারেন সে সুযোগটিও রাখা দরকার।


৩. শ্রদ্ধা জানানো ফুলের তোড়া-ডালা গুলোতো শিশুরা এমনিতেই ভেঙে-চুড়ে নষ্ট করে ফেলে বা সাথে করে নিয়ে যায়। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দেওয়া যেতে পারে। সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর স্মৃতিসৌধের পশ্চিম অংশে শিশুদের লাইনে দাঁড় করিয়ে প্রত্যেকে কিছু ফুল উপহার দেওয়া যেতে পারে। এতে করে একদিকে স্মৃতিসৌধের সামনের অংশে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফুলের তোড়াগুলো সারাদিন রাখা সম্ভব হবে, অপরদিকে অতিরিক্ত তোড়াগুলো শিশুরা নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবে। এতে করে মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের সুন্দর একটি স্মৃতি তারা বাড়িতে বয়ে নিয়ে যেতে পারবে।


৪. এই কর্যক্রমগুলো স্কাউট, যুব রেড ক্রিসেন্ট অথবা স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনে স্বেচ্ছাসেবীরা পালা করে দিনব্যাপী চালিয়ে নিতে পারে। আলোচ্য বিষয়গুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এর দৃষ্টি দেওয়ার জন্য অনুরোধ রইল।

শুভেচ্ছাসহ

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ