যে সাধ মিটে নাই
মিন্নাত আলী
জীবননাট্যের এই সংসার রঙ্গমঞ্চে কতো ঘটনা আর কতো দুর্ঘটনাই না ঘটে চলছে অহরহ। কজনের কথাই-বা আমরা মনে রাখি বা রাখতে পারি? নতুন ঘটনা ও সংঘাতের চাপে অনেক কথা, অনেকের কথাই আমরা ভুলে যাই। কিন্তু অধ্যাপক লুৎফুর রহমান (জাহাঙ্গীর)-এর কথাই আলাদা। তার কথা, তার নির্মল মুখের হাস্যোজ্জ্বল ছবি আজও মনে ভাস্বর। ৩৭ বছর আগে তার সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ-ক্ষণটি স্মৃতিতে এখানো জ্বলজ্বল করছে। লুৎফুর রহমানের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎটি সত্যি নাটকীয় ।
প্রিন্সিপালের টেলিগ্রাম নিয়োগ-বার্তা পেয়ে ১৯৫৭ সালের ১৫ই আগস্ট আমি বাংলার অধ্যাপক পদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে যোগদান করি। চাকরির জন্য আমাকে কোনো রকম ইন্টারভিউ দিতে হয়নি। ইন্টারভিউ ছাড়াই চাকরি পাওয়ার রহস্যটা জানতে পারলাম কাজে যোগদানের পরদিনই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে প্রিন্সিপাল তখন স্বনামখ্যাত আলী আজহার সাহেব। তাঁর চেম্বারে ডেকে বলেন-'শুনুন আলী সাহেব, আপনার এপ্লিকেশনে দেখলাম ইউনিভার্সিটিতে আপনি আপনার হল ম্যাগাজিনের এডিটর ছিলেন। আমাদের একজন এডিটর দরকার। আপনাকে তাই টেলিগ্রাম করে এনেছি। গতবারের কলেজ ম্যাগাজিনের ম্যানাসক্রিস্ট পড়ে আছে-প্রেসে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই নিন ফাইল, কাল থেকে কাজে লাগুন।' এই বলে ভীতিপ্রদ মুখের প্রিন্সিপাল কলেজ বার্ষিকীর ফাইলটা আমার দিকে ঠেলে দিলেন।
এর কিছুদিন পর আমার বাসায় একটি ছেলে দেখা করতে এলো। আমার বাসা তখন ট্যাংকের পূর্বপাড়। পাজামা-পাঞ্জাবি, মাথায় সাদা কিস্তি, বেঁটে-খাটো গোল-গাল চেহারার বেশ ফর্সা রংয়ের একটি ছেলে। আমি চিনলাম না।
: আসসালামু আলাইকুম সম্ভ্রমে সালাম দিয়ে হাসি মুখে ছেলেটি বললো-
আমায় চিনবেন না স্যার, আমি এসেছি প্রিন্সিপালের বাসা থেকে।
প্রিন্সিপালের বাসা থেকে? কেন, কী ব্যাপার? আমি সভয়ে অবাক না হয়ে
পারি নি।
: না, প্রিন্সিপাল স্যার বললেন আপনার সাথে দেখা করতে। আমাদের
ম্যাগাজিন-ফাইলটি নাকি এখন আপনার কাছে।
: ওহ্-হ্যাঁ-হ্যাঁ। তো, তুমি?
ছেলেটি তেমনি হাসি-ভরাট মুখে সুন্দর হাসি মেখে বললো, আমি ছিলাম স্যার
লিটারেরি সেক্রেটারি, আমার পিরিয়ডে ম্যাগাজিনটা বের করতে পারিনি। এখন পড়ছি ইউনিভার্সিটিতে। প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করি। আজ যেতেই আপনার কথা বললেন।
: তা তোমার নাম?
: আমার নাম স্যার লুৎফুর রহমান। ওই নিয়াজ পার্কে আমাদের বাড়ি।
: বার্ষিকীটা তাড়াতাড়ি প্রকাশের চেষ্টা আমিও করছি বলে সেদিন লুৎফুর রহমানকে বিদায় করলেও পরে আদৌ তা বের করতে পেরেছিলাম কিনা, আজ ৩৭ বছর পর কিছুতেই মনে করতে পারছি না।
তারপর-হ্যাঁ, তার চার বছর পর ১৯৬১ সালে লুৎফুর রহমান অধ্যাপক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে যোগদান করলেন। বাণিজ্য বিভাগে। সেই একই চেহারা ওই পাজামা-পাঞ্জাবি আর কিস্তি টুপি। তবে এখন আর ছেলে-ছেলে ভাব নেই, বয়সের গুণে রীতিমতো সুদর্শন তরুণ। তা'হলেও মুখের হাসিটি লেগেই আছে-হাসিটি সুন্দর হয়ে উঠে কথা বলার সময়। ক'দিনেই বুঝলাম, প্রয়োজনে অসম্ভব জেদী ও দুরন্ত সাহসী এই নতুন অধ্যাপক লুৎফুর রহমান।
এই সদাহাস্য মুখটি যখন কোনো কারণে গম্ভীর হয়, ছাত্র-শিক্ষক সবাই তটস্থ হয়ে ওঠে। এমনি তাঁর ব্যক্তিত্ব। নবীন-একেবারে আনকোরা নতুন অধ্যাপক হয়ে কলেজে ঢুকলেও সাহস, আদর্শ সনিষ্ঠ কর্তব্যপরায়ণতা ও অনমনীয় ব্যক্তিত্বের গুণে ক'দিনেই শিক্ষক মহলের নেতৃত্বে চলে এলেন। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৪ যে চার বছর আমি তার সহকর্মী ছিলাম তখন কলেজের শিক্ষকদের হোক আর পিয়নদেরই, সব রকম গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁকে দেখেছি সফল নেতৃত্বের অচঞ্চল ভূমিকায়।
মনে পড়ে জাঁদরেল প্রিন্সিপাল আলী আজহার সাবের ক'টি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সময় আমরা, শামসুল হক, হামিদুল হক, আবদুল আজিজ, গোলাম রাব্বানী প্রমুখ সহকর্মী অধ্যাপকবৃন্দ কতো রাত সলা-পরামর্শ করেছি লুৎফুর রহমানের নিয়াজ পার্কের বাড়িতে। আমি তাঁর অমিত সাহস ও তীক্ষ্ণধী বুদ্ধিমত্তা দেখে অবাক হয়ে যেতাম। তিনি ছিলেন জবরদস্ত প্রিন্সিপাল আলী আজহার সাবের ডাইরেক্ট ছাত্র। অথচ আমাদের প্রফেসর ও প্রিন্সিপালের সেই তাল-মাতাল ঠান্ডা লড়াইয়ের ময়দানে তিনি কী সুন্দরভাবেই না বলতেন- “প্রিন্সিপাল আলী আজহার সাহেব আমার ডাইরেক্ট টিচার, আমি তাঁর অনুগত ছাত্র। আমার টিচারকে আমি রেসপেক্ট করি-তাঁর বাসায় গেলে এখনো পায়ে ছুঁয়ে কদমবুচি করি। এখানে এখন আমি আলী আজহার সাবের ছাত্র নই, আমি একজন প্রফেসর। এই কলেজের বিশ- পঁচিশজন প্রফেসরের সহকর্মীর একজন হয়ে কলেজের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলছি। আমার কথাগুলি অপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু অসত্য নয়। আমি সত্য বলতে যেমন পরান্মুখ নই তেমনি আমি বেয়াদবও নই। যথেষ্ট সম্মান রেখেই আমি এই কলেজের প্রিন্সিপাল সাহেবকে সবিনয়ে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই”- ইত্যাদি ইত্যাদি ।
ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, আদর্শবান ও নীতিপরায়ন লোক সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই হতো না যদি না লুৎফুর রহমানকে কাছে থেকে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পেতাম। শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন নিষ্ঠাবান, কঠোর নিয়মানুগ ও দৃঢ়চেতা আদর্শ অধ্যাপক ক্লাসের বাইরে ছিলেন সহানুভূতিশীল, ছাত্র-দরদি, একজন স্নেহ-প্রবণ, আদর্শ গার্জিয়ান। নিজ বাড়িতে স্কুল-কলেজের ছাত্র (একজন নয়-দু’তিনজন, কোনো কোনো সময় তার চেয়েও বেশি) কে তো লজিং রাখতেনই-তারপরও গরিব ছাত্রদের বেতনের টাকা, পরীক্ষার ফিসের টাকাও দিতেন। সেজন্যই ছাত্রদের হৈ-চৈ বা গোলমালের মাঝে লুৎফুর রহমানের গুরুগম্ভীর হুংকার-“নো টক্-বী সাইলেন্ট মন্ত্রের মতো কাজ করতো।
ছাত্রজীবন, কর্মজীবন ও সমাজ জীবন-সকল ক্ষেত্রে লুৎফুর রহমান ছিলেন আদর্শ পুরুষ। তার পোশাক-আশাক, লেবাস-লোবাস সকল ঋতুতে, সকল স্থানে ছিল এক ও অভিন্ন—ওই পাজামা, পাঞ্জাবি, কিস্তি টুপি (শীতের সময় পশমি মাফলার)। তাকে কোনোদিন কোথাও প্যান্ট-সার্ট পরিহিত দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আর দেখিনি কোনোদিন কোনো ওয়াক্তের নামাজ কাজা করতে। কেবল পোশাকেই নয়, সত্যিকার অর্থেই লুৎফুর রহমান ছিলেন একজন খাঁটি মুসলমান ।
আর একটা গুণ ছিল লুৎফুর রহমানের অকৃপণ বন্ধু বাৎসল্য। সুখ-দুঃখের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে তিনি ছিলেন সবার কাছে সুবিদিত। প্রায়ই দেখতাম তার কলেজ জীবনের, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুরা বেড়াতে আসেন তার বাড়িতে। লুৎফুর রহমান তার আব্বা (খান সাহেব কাজী আবু জামাল, কাইজার-ই-হিন্দ্, এইচএ, আর,ও) এর মতোই ছিলেন প্রাণখোলা ও ভোজন বিলাসী মানুষ। বন্ধুদের মাঝে যখন তিনি হাসতেন তখন আকর্ণ-বিস্তৃত ছাদ ফাটা হাসিই হাসতেন। আর খাওয়া? নিজে যেমন আসক্ত ছিলেন ভোজনে তেমনি বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে খাওয়ার মাঝে পেতেন অনাবিল আনন্দ আর অপরিসীম তৃপ্তি। কতো দিনই না তার বাড়ির লোভনীয় ভোজনে শরীক হয়েছি।
বিশেষ কটি ভোজের কথা অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতী সন্তান মোহাম্মদ আলী ছিলেন তার শিক্ষক। (জনাব মোহাম্মদ আলী বিকম পরীক্ষার পর কিছু দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে শিক্ষকতা করেন; সে সময়ে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি লুৎফুর রহমানের শিক্ষক হয়েছিলেন) মোহাম্মদ আলী সিএসপি হয়ে যাওয়ার পর তিনি বাড়িতে এলেই লুৎফুর রহমান তাঁকে দাওয়াত করে খাওয়াতেন। আর এই সুন্দর সুরুচিপূর্ণ আনন্দঘন ভোজন সভায় আমরাও আমন্ত্রিত হতাম। সবাই মিলে সে কি অনাবিল আনন্দের মাঝে ভূরিভোজনের তৃপ্তির ঢেকুর তোলা
অথচ এই সদানন্দ লুৎফুর রহমানের আনন্দময় জীবনের কী করুণ ও মর্মন্তুদ পরিণতিই না হলো। স্বাধীনতার শত্রু, জল্লাদ হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুর গুলিতে নৃশংস ও বীভৎসভাবে শহীদ হলেন স্বাধীনতাকামী অধ্যাপক লুতফুর রহমান।
শেষের দিনগুলি বড়ই মর্মান্তিক ।
১৯৭১ সালের নভেম্বর মাস। স্বাধীনতা যুদ্ধ তখন একেবারে তুঙ্গে।
আমি তো সেই ১৯৬৪ সাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ। ওই কলেজ ছেড়ে এলেও আমার এককালের সহকর্মী সবার সাথেই যোগাযোগ রেখে চলেছি। লুৎফুর রহমানের সাথে তখনো আমার মধুর সম্পর্কটি অটুট রয়েছে। আমরা যারা শরণার্থী হয়ে ইন্ডিয়া যেতে পারিনি, তারা প্রায় সবাই এখানে মরণার্থী হয়ে কলেজ করে যাচ্ছি। ছেলেদের কলেজে প্রিন্সিপাল থেকে শুরু করে আজিজ সাব, লুৎফুর রহমান, মোমেন সাব, মুজিবুল হক অনেকেই আছেন। ১৫ থেকে ২৬ নভেম্বর কলেজ বন্ধ-রমজানের ছুটি। খুলবে ২৭শে নভেম্বর। এই ভয়ংকর দিনগুলির মাঝেই ২৩শে নভেম্বর রেডিও পাকিস্তান থেকে সমগ্র দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো। আমরা ত্রাস ও ভয়ের জালে আটকা পড়লাম। ইন্ডিয়ার সাথে এই যুদ্ধ লাগলো বলে ।
২৭ নভেম্বর শনিবার। ঈদের ছুটির পর কলেজ খুলেছে। ছাত্রী দশ-বারো জনের বেশি আসেনি। জরুরি অবস্থা ঘোষণায় সবাই ভীত-সন্ত্রস্ত। আজ আমার প্রাক্তন ছাত্র ও আত্মীয় মোহাম্মদ উসমান মোল্লার বিয়ে। বিয়ে এই শহরেই বাগান বাড়ির রহমান মঞ্জিলে। বেলা দুইটার দিকে বিয়ে বাড়িতে যাই। ওখানে গিয়ে জানতে পাই, কনে আনারকলি আমার কলেজের ছাত্রী। চারটায় পেটে ক্ষুধা নিয়ে খেতে বসেছি, এমন সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের অধ্যাপক মুজিবুল হক এলেন। তিনিই দিলেন ভয়ংকর দুঃসংবাদটি : অধ্যাপক লুৎফুর রহমান স্যারকে মিলিটারি ধরে নিয়ে গেছে, কলেজ থেকে।
২৮ ও ২৯ নভেম্বর দু'দিন সাইকেল নিয়ে ছুটি নিয়াজ পার্কে (তখন তো আমি আমার নিত্যসঙ্গী সাইকেল নিয়েই চলতাম) লুৎফুর রহমানের বাড়ি। তার বড় ভাই কাজী শাহজাহান (মনিরের আব্বা)-এর সাথে আলাপ করে জানার চেষ্টা করি, লুৎফুর রহমান বন্দি অবস্থায় কোথায় আছেন। তিনি সঠিক বলতে পারলেন না। কেউ বলে লুৎফুর রহমানকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলে, না-না, এখানেই-জেলে আছে।
এখানকার জেলাখানার কথা শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হই। এ জেলে থাকলে দেখা করতে পারবো। কেননা, আমি তো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার অন্যতম বেসরকারি পরিদর্শক।
জেলখানায় যাওয়ার আগে কলেজের প্রিন্সিপালের সাথে একবার দেখা করা উচিত। লুৎফুর রহমানের মুক্তির ব্যাপারে কী চেষ্টা তদবির করছেন, জানা দরকার। অফিসে তিনি একাই । সালাম দিয়ে তাঁর সামনের চেয়ারে বসলাম।
: লুৎফুর রহমান সাবের মুক্তির ব্যাপারে কী করছেন?
'ম্যান অব প্রিন্সিপাল' ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের রূপকার জাঁদরেল প্রিন্সিপাল আমার দিকে মুখ না তুলে টেবিলের ড্রয়ার খুলতে খুলতে অনেকটা বিরক্ত ভরেই বলে- ন-আমি? আমি কী করবো?' অবাক হলাম, তাঁর এমন জবাবে আমি আহত হলাম । এমন রূঢ় জবাব তো আশা করিনি। লুৎফুর রহমান শুধু তার সহকর্মী প্রফেসরই নন। লুৎফুর রহমান তাঁর ছাত্রও বটেন।
: আপনি প্রিন্সিপাল। আমি অনেকটা নীরস কণ্ঠে বলি- আপনার একজন প্রফেসরকে নিয়ে গেল, আপনি তার খোঁজ-খবর নেবেন না? বিশেষ করে বিগ্রেডিয়ার সাদুল্লাহ ও মেজর আব্দুল্লার সাথে যখন আপনার ব্যক্তিগত পরিচয়ও রয়েছে।
এবার প্রিন্সিপাল আমার দিকে চোখ তুললেন। তাঁর কালো মুখ উত্তেজনায় লাল হয়ে উঠেছে, বলেন-আমি কী করবো? আমাকে যদি ওরা ধরে নিয়ে যায়? আমি থ হয়ে গেলাম । কলেজ থেকে বেরিয়ে সাইকেল চালালাম সোজা জেলখানার দিকে। পথে আজিজ সাবের সাথে দেখা। তাঁকে সব বলাম এবং তাঁর কাছ থেকে জেনে নিলাম লুৎফুর রহমান কোন ব্যান্ডের সিগারেট খান। জেলখানায় তো ধূমপান করতে দেয় না, আমি কিছু সিগারেট দিয়ে আসতে পারবো ।
ট্যাংকেরপাড় মুন্সীর দোকান থেকে এক প্যাকেট বক সিগারেট কিনে পৌঁছুলাম জেলখানায় । কিন্তু হায় আফসোস! জেলর মোহাম্মদ ইসলাম সাব নীচু সুরে বলেন, সরি স্যার, দেখা করা যাবে না। মেজরের কড়া হুকুম। প্রফেসার লুৎফুর রহমানের সাথে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হবে না। তবে জেলর বলেন-প্রফেসর সাব ভালোই আছেন। বাসা থেকে কাপড়-চোপড় সব পাঠিয়েছে।
নিরাশ হতে হলো। সিগারেটের প্যাকেট পকেটে রেখেই ফিরে আসি। তবে মনে মনে ঠিক করি, এই সামনের রোববার ৫ ডিসেম্বর আরেক জেল পরিদর্শক এডভোকেট বদরউদ্দীন চৌধুরীকে নিয়ে অফিসিয়ালি জেলখানার ভিতরে যাবো, তখন লুৎফুর রহমানকে দেখবো, সাক্ষাতে সব কথাবার্তা বলবো ।
কিন্তু না, আমার সে সাধও পূরণ হলো না ।
৫ ডিসেম্বর রোববার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আকাশে ভারতীয় বিমানের আনাগোনা। দুপুরের দিকে শুরু হলো এখানে-ওখানে ভারতীয় বিমানের অবিরাম গোলাগুলির আক্রমণ আর আক্রমণ । বাসার উঠানে তৈরি ট্রাঙ্কের কবরে গিয়ে আশ্রয় লই। কিছুক্ষণ পর আকাশ বিমান-মুক্ত হতেই ছেলে-মেয়ে কাচ্চা-বাচ্চা নিয়ে আমরাও দ্রুত শহর ছেড়ে পালাই ।
---------
আজ ১১ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতী সন্তান এই মহান বুদ্ধিজীবীর ৮৯তম জন্মবার্ষিকী। আমরা তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।------মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

0 মন্তব্যসমূহ