Ticker

6/recent/ticker-posts

খারঘর গণহত্যা দিবস আজ। এক গ্রামে শহিদ হয়েছিলেন ৪৩জন।


খারঘর গণহত্যা দিবস আজ। এক গ্রামে শহিদ হয়েছিলেন ৪৩জন।

তিতাস ও পাগলা নদীর তীরে অবস্থিত ছোট একটি গ্রাম, নাম তার খারঘর। এই গ্রামের পশ্চিমে পাগলা নদী, উত্তরে শরিফপুর ও আশুগঞ্জ, পূর্বে চিলোকুট ও সাদেকপুর ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে তিতাস ও পাগলা নদী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বরাইল ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত এই গ্রামে ১৯৭১ সালে নেমে এসেছিল পাকিস্তান বাহিনীর ভয়াবহ তাণ্ডব। সে সময় এই গ্রামের বাসিন্দা ছিল প্রায় ৭০০ জনের মতো। ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবরে পাক বাহিনী এই গ্রামে চালায় নিষ্ঠুর গণহত্যা। এদিন তারা ৪৩ জন সাধারণ গ্রামবাসীকে নির্দয়ভাবে হত্যা করে।

১৯৭১ সালের পাকিস্তান বাহিনী পার্শ্ববর্তী বরাইল গ্রামের একজন নারীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯ জন লোককে ধরে নিয়ে যায়। পরে মহিলাকে ছেড়ে দিয়ে বাকি ৮ জনকে আশুগঞ্জ নিয়ে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। তারা হলেন হরেন্দ্র মজুমদার (৪০), অমৃত দেবনাথ (৪০), ক্ষেত্রমোহন দেবনাথ (৬০), অনিরুদ্ধ দেবনাথ (২২), রাজমোহন সূত্রধর (৪০), পরেশ কর্মকার (২৬), যোগেন ভৌমিক (৪৫) ও কৃষ্ণধন ভৌমিক (৪০)। নদীতে ভেসে যাওয়ায় তাদের লাশও পাওয়া যায়নি। মহিলা ছাড়া পেয়ে তার স্বামী তারামোহন দেবনাথ ও তিন ছেলে তিন মেয়েকে নিয়ে ভারতে চলে যান। 


বড়াইলে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হবার পর এলাকার অন্যান্য হিন্দু পরিবারগুলোও ভারতে চলে যায়। রাজাকাররা তখন হিন্দু বাড়িগুলোতে লুটপাট করে। এর কিছুদিন পর বড়াইল এলাকায় মুক্তিবাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান গড়ে ওঠে। মুক্তিবাহিনীর কয়েকটি গ্রুপ তখন বড়াইল ও খারঘর এলাকায় অবস্থান করছিল। এই খবর অজানা থাকে না পাক বাহিনীর কাছে। স্থানীয় রাজাকারদের কাছে খোঁজ পেয়ে পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের বড়াইল ক্যাম্প আক্রমণ করে এবং খারঘরে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। 


১০ অক্টোবর খুব সকালে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় হানাদার বাহিনী খারঘর ও পার্শ্ববর্তী বরাইল গ্রামে আক্রমণ করে। হানাদার বাহিনী রাজাকারদের নিয়ে তিনটি গ্রুপ করে খারঘর গ্রামের ভেতরে বিভিন্ন বাড়িতে প্রবেশ করে যাকে যে অবস্থায় পায়, তাকেই গুলি করে ও বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করে। এ গণহত্যায় গ্রামের ৪৩ জন মানুষ শহিদ এবং শতাধিক আহত হন। 


পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা সারাদিন গ্রামের বাড়িঘর ও বরাইল বাজারে লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সন্ধ্যার দিকে আশুগঞ্জ চলে যায়। পরে গ্রামের মানুষ, পাশের গ্রাম থেকে আত্মীয়-স্বজন ও মুক্তিযোদ্ধারা এসে খারঘর গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় পাগলা নদীর তীরে আফসার আলীর বাড়ি ও আ. ওয়াহাব মিয়ার বাড়িতে ৪৩ জন শহীদদের লাশ ২টি গর্তে সমাহিত করে, যার একটিতে মহিলা এবং অন্যটিতে পুরুষদের কবর দেওয়া হয়। 



বড়াইলে অবস্থানকারী মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গ্রুপের কমান্ডার ছিলেন আল মামুন সরকার। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন : ৯ অক্টোবর রাতে আমি এবং সেকশন কমান্ডার সারওয়ার্দী খারঘরে আমাদের অগ্রবর্তী ক্যাম্পে ঘুমিয়েছিলাম। ভোরে কুয়াশার মধ্যে পাগলী নদীতে লঞ্চ আগমনের আওয়াজ পেয়েই আমরা সতর্ক হয়ে যাই। কারণ এই নদী দিয়ে ইতঃপূর্বে কোনোদিন ইঞ্জিন চালিত নৌযান চলাচল করেনি। সাথে সাথে আমরা আমাদের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাকবাহিনীকে বড়াইল খালের মোহনায় প্রবেশপথে আক্রমণের নির্দেশ দিয়ে আমি দ্রুত বড়াইল ক্যাম্পে চলে আসি এবং বাজারের পশ্চিম পাশে অবস্থান গ্রহণ করি। 


খারঘরে মুক্তিযোদ্ধারা তিনগ্রুপে বিভক্ত হয়ে সারওয়ার্দী, কাশেম, হারুন এবং তাজুল নদীর তীরবর্তী একটি বাড়িতে, এর একশ গজ পূর্বে একটি বাঁশঝাডের নিচে ছয়জন আনসার সদস্য এবং দক্ষিণে একটি কবরস্থানে খায়ের ও গোলাপ পজিশন নেয়। চার থেকে পাঁচশ লোকের বাস ছোট এই খারঘর গ্রামে। গ্রামের মানুষ কিছু বুঝবার পূর্বেই শতাধিক সৈন্য নিয়ে পাকবাহিনী খারঘরের নিকট বড়াইল খালের মোহনায় পৌঁছে যায়। সাথে সাথে খারঘর থেকে মুক্তিযোদ্ধারা প্রচণ্ড গুলিবর্ষণ শুরু করে। 


প্রাথমিকভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত পাকসেনারা লঞ্চটিকে দ্রুত নদীর পাড়ে ভিড়িয়ে ছিপ ছিপ পানিতে, ধান ক্ষেতের আইলে পজিশন নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে আক্রমণকারী মুক্তিযোদ্ধদের শক্তি সম্পর্কে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করে। পেশাদার সৈনিক হিসেবে সহজেই তারা খারঘরে অবস্থানকারী মুক্তিবাহিনীর শক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। এরই মধ্যে আমি বড়াইল থেকে পাকবাহিনীর অবস্থানের উপর ফায়ার শুরু করি। বড়াইল থেকে মুক্তিবাহিনীর আক্রমণের তীব্রতা অনুধাবন করে পাক আর্মি বড়াইল প্রবেশের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দ্রুত গতিতে খারঘরে ঢুকে পড়ে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ স্থল ঘিরে ফেলে। 


চতুদির্কে বর্ষার পানি ও প্রচণ্ড গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে গ্রামের খুব কমসংখ্যক মানুষই নিরাপদে পালাতে পেরেছিল। বাকিরা নিজ নিজ বাড়ির আশেপাশে ঝোপ-ঝাড়ে এবং ধানক্ষেতে লুকিয়েছিল। আধাঘণ্টা পর্যন্ত এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণের শব্দ ছাড়া খারঘরে কী ঘটছে, মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে পিছনে আসতে পেরেছে কিনা ইত্যাদি কিছু বুঝতে পারছিলাম না। চতুর্দিকে পশু পাখির আর্তচিৎকার এবং আত্মরক্ষার জন্য নারী-পুরুষের ছোটাছুটিতে একটি ভীত-সন্ত্রস্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। 


খারঘরে প্রথম গুলি বর্ষণের প্রায় এক ঘণ্টা পর সারওয়ার্দী এবং তাজুল কাদা মাখা অবস্থায় দৌড়ে এসে জানাল যে, পাকবাহিনী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একদল খারঘরে এবং অপর একটি দল ধানক্ষেত দিয়ে বড়াইলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাকবাহিনীর গুলিতে একজন আনসার আহত হয়েছে খায়ের ও গোলাপসহ অন্যরা পিছনে আসতে পেরেছে কিনা তা বোঝা যায়নি। গ্রামের ভেতরে ঢুকে পাকবাহিনী ব্রাশফায়ার করছে। এ ধরনের একটা দুঃসংবাদে আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। এরই মধ্যে বড়াইল উত্তর পাড়ার একটি আলগা বাড়িতে অগ্নিকুণ্ড ও আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখে উত্তর দিক থেকে আক্রান্ত হবার আশঙ্কায় আমরা দ্রুত বড়াইল বাজার-খালের দক্ষিণ পাশে বিভিন্ন বাড়িতে পজিশন গ্রহণ করি। 


বেলা ১০ টা নাগাদ পাকবাহিনীর ৩০/৪০ জনের একটি দল বাজার পুকুরের উত্তর পাড় দিয়ে দ্রুত বাজারে প্রবেশ করে। তখন আমাদের পজিশন এবং পাকবাহিনীর মধ্যে দূরত্ব ছিল মাত্র কয়েকশ গজ। তাৎক্ষণিক এস এম জি দিয়ে আমি ব্রাশফায়ার শুরু করি। সাথে সাথে অন্যান্যরাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যাপক ফায়ার শুরু করে। পাকবাহিনী এই ঝটিকা আক্রমণে বাজারের বিভিন্ন দোকানের পিছনে লাফিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করে এবং কিছু অংশ পুকুরের পূর্বপাড়ে একটি হিন্দু বাড়িতে পজিশন নিয়ে পাল্টা হামলা চালায়। ১৫/২০ মিনিট উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড গুলি বিনিময় হয়। একপর্যায়ে পাকবাহিনী আমাদের অবস্থানের উপর দুই ইঞ্চি মর্টারের গোলাবর্ষণ করতে করতে দ্রুত খারঘরে পৌঁছে তাদের লঞ্চ যোগে পশ্চাৎদপসরণ করে। 


আমাদের সৌভাগ্য যে আমাদের সামনে ও পিছনে খাল ডোবা ও বর্ষার পানি থাকায় শত্রুর নিক্ষিপ্ত মটারের একটি গোলাও বিস্ফোরিত হয়নি। আমাদের আক্রমণে বড়াইল বাজারে পাকবাহিনী অন্তত পাঁচজন সৈন্য হতাহত হয়। বাজার পুকুরের উত্তর-পশ্চিম কোনো একটি পাকা ল্যাট্রিনের সামনে রক্তের স্তুপসহ পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া এক বাক্স গুলি এবং একজোড়া জুতা পাওয়া যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ প্রতিরোধের কারণে পাকবাহিনীর বড়াইল আক্রমণ ব্যর্থ হয়। কিন্তু বড়াইলে সেদিন কোনো ক্ষয়-ক্ষতি করতে না পারলেও খারঘর গ্রামে এরা ইতিহাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও পৈশাচিক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে গেছে।


দুপুর ১২টা নাগাদ পাকবাহিনী খারঘর থেকে পশ্চাদপসরণ-এর সাথে সাথে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে সদলবলে দ্রুত খারঘরে পৌঁছি। সমস্ত গ্রামে তখন প্রতিটি বাড়িতে স্বজন হারানোর গগনবিদারী কান্নার আওয়াজ। যেদিকে তাকাই শুধু লাশ আর লাশ। আমাদের সহযোগী হারুন, শাহজাহান এবং এনামুলকে অক্ষত পেলেও দেশের জন্য স্বাধীনতার জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়ে গেলেন আনসার সদস্য আলী আজগর, রেনু মিয়া, খুরশিদ মিয়া, দারু মিয়া, রহিছ মিয়া, ও আবুল কাশেম। খায়ের ও গোলাপের গুলি শেষ হয়ে যাওয়ায় অস্ত্রসহ বন্দী হলেন। গত রাতে কই মাছের ভাজা দিয়ে যে মহিলা মাতৃস্নেহে আমাদের কয়েকজনকে ভাত খাইয়েছিলেন সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহানের সেই মহীয়সী মাতা ও তিন ভাইয়ের ক্ষত-বিক্ষত চারটি লাশ ঘরের সামনে উঠানে পড়ে আছে। শাহাজাহানের তিন ভাই ও মাতাসহ একই পরিবারের চারজন শহিদ হলেন। তাঁর ভাবী ও বোন হয়েছেন নির্যাতিতা।


সুদূর পল্লীর ছোট এই গ্রামটিতে গতকালও ছিল মানুষের কোলাহল, মসজিদে মাজানের ধ্বনি, কৃষকের সুখ স্বপ্নের নীড়, মাঝির কণ্ঠে গান। ক্ষণকাল পরেই আজ যেন শূন্য পুরী। পাকবাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে ছয়জন মুক্তিযোদ্ধাসহ শহিদ হলেন গ্রামের ৪৬ জন নারী ও পুরুষ। আহত হলেন শতাধিক, নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হলেন অনেক পুণ্যবতী মা ও বোন। ব্যাপক, লুটপাটে গ্রামটি বিধ্বস্ত হলো। দুপুর নাগাদ পার্শ্ববর্তী গ্রাম সমূহ থেকে স্বজনদের খোঁজে ছুটে এলেন হাজার হাজার মানুষ। শহিদদের কাফনের কাপড় নেই, আহতদের চিকিৎসার জন্য নেই ডাক্তার, নেই কোনো ঔষধ। দু ফোঁটা চোখের জল আর সৃষ্টিকর্তার কাছে হায়েনাদের বিরুদ্ধে অভিশাপ জানানো ছাড়া সহানুভূতি প্রকাশের আর কোনো ভাষা ছিল না সেদিন গ্রামের নিরস্ত্র মানুষের।'


'জোহরের নামাজের পর সেই পাগলী নদীর তীরে একটি উঁচু ভূমিতে দুটি বৃহৎ গর্ত করে একটিতে পুরুষ এবং অপরটিতে মহিলাদের দাফন করা হলো।' 



খারঘর গণহত্যায় শহীদ গ্রামবাসীরা হলেন- ০১. ফুল মিয়া (পিতা হাফিজ মিয়া), ০২. রেণু মিয়া (পিতা ফুল মিয়া কমান্ডার), ০৩. আফাজ উদ্দিন (পিতা আলী নেওয়াজ), ০৪. সাজেদা বেগম (পিতা আলী নেওয়াজ),  ০৫. আয়েশা (পিতা আ. মান্নান), ০৬. জোবেদা খাতুন (স্বামী আবু তাহের), ০৭. আ. খালেক (পিতা আ. রহমান), ০৮. আলী আহাম্মদ (পিতা আব্বাস আলী), ০৯. দারু মিয়া (আলী আকবর), ১০. ফুল মিয়া (পিতা আলী আকবর), ১১. মলফত আলী (পিতা জসর আলী), ১২. আলী নেওয়াজ (পিতা মুন্সী ফজিল), ১৩. আ. জলিল (পিতা আছু মোল্লা), ১৪. খুরশেদ মিয়া (পিতা চেরাগ আলী), ১৫. আ. ছাদির (পিতা বলি মাহমুদ),  ১৬. জজ মিয়া (পিতা দারুগালী), ১৭. মতি মিয়া (পিতা কফিল উদ্দিন), ১৮. সুরুজ মিয়া (পিতা কফিল উদ্দিন), ১৯. কামাল শাহ (পিতা আবদুল আজিজ), ২০. অহিদ মিয়া (পিতা বাদশাহ মিয়া), ২১. আবুল কাশেম (পিতা আ. মজিদ), ২২. রোকেয়া বেগম (পিতা আ. মজিদ), ২৩. ছোবান মিয়া (পিতা দানু মিয়া), ২৪. রহিছ মিয়া (পিতা আ. ছোবান),২৫. রহিছ মিয়া (পিতা ইসহাক মিয়া), ২৬. কালাচাঁন মিয়া (পিতা হাফিজ উদ্দিন), ২৭. ধন মিয়া (পিতা গোলাম হোসেন),২৮. মন্তু মিয়া (পিতা অলফত আলী), ২৯. জাহের মিয়া (পিতা আ. করিম), ৩০. তৈয়ব আলী (পিতা নজব আলী), ৩১. ধন মিয়া (পিতা ফুল মিয়া), ৩২. সুফিয়া খাতুন (স্বামী ঈসমাইল মিয়া), ৩৩. আবুল কাসেম (পিতা ঈসমাইল মিয়া), ৩৪. আবুল হোসেন (পিতা ঈসমাইল মিয়া), ৩৫. আলেক মিয়া (পিতা ঈসমাইল মিয়া), ৩৬. রহিছ উদ্দিন (পিতা ছন্দর আলী), ৩৭. ফাতেমা বেগম (পিতা রহিছ উদ্দিন), ৩৮. তব্ধব আলী (পিতা নোওয়াব আলী), ৩৯. নিজাম উদ্দিন (পিতা আব্দুল মিয়া), ৪০. মালু মিয়া (পিতা জয়দর আলী), ৪১. বালি মিয়া (পিতা সুবেদার), ৪২. বালি মিয়া (পিতা আয়দর আলী), ৪৩. লুন্তু মিয়া (পিতা মাতবর আলী)। 


১৯৯৭ সালে খারঘর গণকবর-শহিদস্মৃতি সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। এবং স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছর পর ২০১৮ সালে সেখানে ‘খারঘর গণকবর স্মৃতিসৌধ-৭১’ নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হয়। এবং পর্যায়ক্রমে নানা সময় সেখানে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধন করা হয়। প্রতিবছর এই স্মৃতিসৌধে শহিদদের স্মরণে কবর জেয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

তথ্য সূত্র: 


১, মো. শাহজাহান সোহেল, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ, ৩য় খণ্ড ও সংগ্রামের নোটবুক।


২. আল মামুন সরকারের সাক্ষাৎকার, মুক্তিযুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া; জয়দুল হোসেন, তৃতীয় প্রকাশ, জুন ২০১৯, গতিধারা প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ১৭৯-১৮১।


৩. গণহত্যা বধ্যভূমি ও গণকবর জরিপ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, জয়দুল হোসেন, দ্বিতীয় মুদ্রণ, এপ্রিল ২০২৪। প্রকাশক : গণহত্যা নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র, পৃষ্ঠা ৫৯ ও ৯১।


৪. ফেসবুক/ইন্টারনেট।


—

সকল শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

তথ্য সংগ্রহ ও সম্পাদনা  : মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ