Ticker

6/recent/ticker-posts

নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ কাউসার আহমেদ

ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সম্মানিত নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোঃ কাউসার আহমেদ মহোদয়ের জন্মদিন আজ। এবারের জন্মদিনটি তাঁর জীবনে একটু অন্যরকম। কারণ, দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ থেকেই তিনি শুরু করেছেন তাঁর অবসর জীবন।

দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণ উপলক্ষে গতকাল বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রিয় এই কর্মকর্তাকে জানানো হয় বিদায়ী সংবর্ধনা। অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সম্মানিত প্রশাসক (উপসচিব) জনাব শরিফুল ইসলাম মহোদয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. এরশাদ মিয়া, পৌর পরিষদের সদস্যবৃন্দ, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা জনাব গোলাম কাউছার মহোদয়, সহকারী প্রকৌশলী সবুজ কাজী মহোদয়সহ পৌরসভার বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।বিদায়ী প্রকৌশলী মহোদয়ের সহধর্মিণীও এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বক্তারা বিদায়ী কর্মকর্তা মোঃ কাউসার আহমেদের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। তাঁদের প্রত্যেকের বক্তব্যে উঠে আসে জনাব কাউছার আহমেদের কর্মনিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা, একনিষ্ঠতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও কাজের প্রতি তাঁর অসাধারণ ত্যাগের কথা।

সহকর্মী হিসেবে অন্য সহকর্মীদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ও অভিভাবকসুলভ আচরণের কথাও উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। সহকর্মীরা বিপদে পড়লে তিনি যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, কিংবা পৌরসভার বিভিন্ন আপৎকালীন সময়ে ঢাল হয়ে বিচক্ষণতার সঙ্গে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন— সেসব স্মৃতিও তাঁরা আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রত্যেকেই একবাক্যে বলেছেন, জনাব কাউছার আহমেদ তাঁদের জন্য ছিলেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল পাঠ।

বক্তাদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে ২০০২ সালে সংঘটিত তাঁর জীবনের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কথাও। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুজন সহকর্মী মৃত্যুবরণ করেন। তিনিও গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসার পর মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসেন। এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরও কর্মজীবনে তাঁর যে কর্মচাঞ্চল্য, দায়িত্বশীলতা ও দৃঢ়তা— তা সত্যিই বিস্ময়কর।


নিজের পরিবারের সদস্যদের সময় না দিয়ে ঈদ, পূজা কিংবা রোজার সময়ও যখন অনেক সহকর্মী ছুটিতে থাকতেন, তখন তিনি পৌরবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। অন্যরা যখন আনন্দ ভ্রমণে গেছেন, তখনও তিনি পৌরসভার কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। তাঁর কর্মজীবনের এমন অসংখ্য ছোট-বড় ত্যাগের কথাও উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে।

ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশন কিংবা ক্রাইসিস মোমেন্ট ম্যানেজমেন্টে তাঁর অসাধারণ দক্ষতার কথাও বলেন অনেকে। দীর্ঘ কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি কাটিয়েছেন এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায়। এই দীর্ঘ সময়ে একাধিক সরকার, সংসদ সদস্য, পৌর মেয়র ও প্রশাসক এবং অসংখ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। একই সঙ্গে পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠেছে তাঁর চমৎকার সম্পর্ক ও বোঝাপড়া।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে জনাব কাউছার আহমেদ যেভাবে পৌরসভার নানা সংকট ও পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। এটা আর অন্য কারো দ্বারা সম্ভব নাও হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁর অবসর জীবন আনন্দময়, সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ হোক— এই কামনা করেন।


সহকর্মীদের এমন আবেগঘন বক্তব্যে বিদায়ী অতিথি জনাব মোঃ কাউসার আহমেদও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। স্মরণ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারা সহকর্মীদের কথাও। নিজের সক্ষমতার পাশাপাশি নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও অকপটে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সহকর্মীদের জন্য দেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ ও নির্দেশনা।

আলোচনা সভা শেষে পৌরসভা পরিবারের পক্ষ থেকে বিদায়ী অতিথি জনাব মোঃ কাউসার আহমেদ মহোদয়কে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।

পৌরসভার একজন সামান্য কর্মচারী হিসেবে জনাব কাউছার আহমেদ মহোদয়ের সঙ্গে আমারও কাজ করার কিছু টুকরো স্মৃতি রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি— কাউছার স্যারের মতো একজন দায়িত্বশীল, কর্মনিষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করতে পারা সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার।

আজ তাঁর জন্মদিন। আর এই জন্মদিনেই শুরু হলো জীবনের নতুন অধ্যায়— অবসর জীবন।

শুভ জন্মদিন, স্যার। আপনার অবসর জীবন হোক আনন্দময়, সুস্থ, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ। দীর্ঘ কর্মজীবনের অর্জন ও প্রিয়জনদের ভালোবাসায় আপনার প্রতিটি দিন হয়ে উঠুক সুন্দর ও অর্থবহ। আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাদের জন্য দোয়া করবেন— এই প্রত্যাশা রইল।

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ