Ticker

6/recent/ticker-posts

বইমেলার স্মৃতি-১

প্রতিবার বইমেলায় কারো না কারো সাথে যাই, কিন্তু মেলায় গিয়ে আবার হারিয়ে যাই বইয়ের রাজ্যে। কিছুক্ষণ একা, একা ঘুরি বইমেলার অলি গলি। ঢাকার গলির গোলক ধাঁধার মতোই বইমেলার সারণিগুলো। সিরিয়াল নাম্বার দেখেও কাঙ্ক্ষিত প্রকাশনীর স্টল খুঁজে পেতে গলদ্‌ঘর্ম হতে হয়। স্টলে স্টলে ঘুরে ঘুরে পরস্পরের শৈল্পিকতার পার্থক্য খুঁজি, নান্দনিকতার মুগ্ধ হই। 


রং-বেরঙের বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে বুঝতে চেষ্টা করি লেখক-শিল্পীদের রুচি ও ভাবনার পার্থক্য। পাতা উল্টে উল্টে দেখি বইয়ের ভিতরের বিষয় বস্তুু। অনেক বই কিনতে ইচ্ছে করে, অনেক! কিন্তু পকেট বলে- সাবধান! ঘুরতে ঘুরতে তারপর অসংখ্য অচেনা মানুষের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ পরিচিত মুখ দেখে উৎফুল্ল হয়ে উঠি। যদিও এবারের জনশূন্য বইমেলা আমার আগ্রহ ও উৎসাহের গায়ে চিমটি কেটে দিয়েছে।



এবারের বইমেলায় পথের সাথী হয়েছিলাম লেখক-শিল্পী শ্রদ্ধেয় আব্দুর রহিম স্যারের। বইমেলায় আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন কথাসাহিত্যিক আমির হোসেন স্যার ও লেখক-শিল্পী মোসলেম উদ্দিন সাগর ভাই ও অনুজ কবি মুরাদ আল হাসান। গত বইমেলায় গিয়েছিলাম কবি ও গবেষক জয়দুল হোসেন স্যারের সাথে। এর আগের বইগুলোতে আমির হোসেন স্যারের সাথে। এবার বইমেলায় জয়দুল হোসেন স্যারকে মিস করলেও তাঁর প্রকাশিত তিনটি বই আগেই সংগ্রহ করেছিলাম। 


এবার ১৭৮ নম্বর স্টলের অনুপ্রাণন প্রকাশনী থেকে আমির হোসেন স্যার-এর নদীভিত্তিক উপন্যাস উপন্যাস ‘চরকেদরখোলা’, ও ২৫৫ নম্বর স্টলের ‘এবং মানুষ প্রকাশনী, প্রকাশনী থেকে রহিম স্যারের কাব্যগ্রন্থ ‘যখন বাঁশি বাজবে’ এবং ৩৩৩ নম্বর স্টলের এশিয়ান পাবলিকেশনস থেকে মোসলেম উদ্দিন সাগর ভাইয়ের কাব্যগ্রন্থ ‘পথের শেষ নেই ’বইগুলো সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট লেখকদের সাথে ছবি বদ্ধ হলাম।


প্রিয় মানুষ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লেখকদের বই আগ্রহিত একটু বেশি থাকবেই। এছাড়াও আরো কিছু বই, সাহিত্য পত্রিকা সংগ্রহ ছাড়াও অনেক লেখকের মুখদর্শন হলো। সেসব নিয়ে লিখতে চেষ্টা করব পরবর্তী পোস্টে। হঠাৎ করেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য বইমেলায় গিয়েছিলাম, কিন্তু একগাদা স্মৃতি নিয়ে ফিরে এসেছি মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে।

 

বইমেলার স্মৃতি-১

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

০৯ মার্চ ২৬

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ