যে মেয়েরা লেখাপড়া করে না ওরাও তেলাপোকাকে ভয় পায়, তারা অচেনা কারো বাড়িতে গৃহস্থালি কাজ করতে যায়। ওরা তেলাপোকাকে ভয় পায়, আবার সমাজের মানুষের কানাঘুষা উপেক্ষা করে রাস্তা-দালান নির্মাণ করতে যায়, গার্মেন্টস বা কলকারখানায় কাজ করতে যায়।
জীবনের প্রথমাংশ এক পরিবার পরিবেশে কাটিয়ে বাকী অংশ কাটায় সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে, অচেনা মানুষদের সাথে। ওরা তেলাপোকাকে ভয় পায়, আবার মাতৃত্বের অসীম যন্ত্রণা সহ্য করে নেয় হাসিমুখে। বিনা দ্বিধায়, বিনা বাধায় ডাক্তারের ছুড়ির কাছে নিজেকে সঁপে দেয় তার পেটটি কাটার জন্য।
পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রে, পথ-ঘাট, হাট-বাজারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্র, এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও মানুষ নামক মুখোশের আড়ালে শত শত দানব-রাক্ষস জানোয়ারের মুখের গ্রাস হয়ে এক জীবনে মেয়েদের পাড়ি দিতে হয় শত শত ভয়, বাধা-বিপত্তীকে। এক জীবনে ওরা কত কিছুর ভয় উপেক্ষা করে কিন্তু তেলাপোকাকে ভয় পায়।
ভেবে দেখলাম, আসলেইতো মেয়েদের জন্মই হয়েছে শুধু তেলাপোকাকেই ভয় পাওয়ার জন্য, আর অন্য কিছুকে নয়।
সবাইকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা।
-------
মেয়েদের জন্ম হয়েছে শুধু তেলাপোকাকে ভয় পাওয়ার জন্য।
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
১৬ জুন ২৪

0 মন্তব্যসমূহ