দ্রুত গতিতে ছুটে চলছে একটি রেলগাড়ি,
বাতাসকে পরাজিত করে এগিয়ে চলছে
কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।
রেলগাড়ি-
পাড়ার দুরন্ত ছেলের মতই দুরন্ত তার স্বভাব।
নিজের চাকায়- চলে আপন মর্জিতে।
স্বেচ্ছায় না থামলে তাকে থামাতে পারে না
অন্য কোনো কিছু।
ভীষণ জেদি!
হয় অ্যাক্সিডেন্ট করে নিজে মরবে,
নয়তো অন্যকে মারবে!
কিন্তু সিগন্যাল ছাড়া থামবে না কোথাও।
শহর নগর গ্রাম পেরিয়ে-
কতশত যানবাহনকে অপেক্ষায় রেখে
সাঁই সাঁই করে ছুটে চলে।
রেলগাড়ি
চলে শাহী মেজাজে-
তার জন্য পেতে রাখতে হয় লোহার শক্ত পথ।
সুবিশাল উন্মুক্ত প্রান্তর, গভীর জঙ্গল
কিংবা প্রমত্তা নদী- কোনো কিছুই
তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
বাতাসে দোল খাওয়া মাঠে ফসলের নাচন
বনফুলের হাসি দেখতে দেখতে এগিয়ে চলে
মহাকালের রেলগাড়ি।
মাঝে মাঝে তার যাত্রা পথে কতগুলো টানেল
মুখ হা করে উৎ পেতে থাকে।
রাক্ষুসে হাঙরের মতো
একটি টানেল যখন রেলগাড়িটিকে গিলে খায়
তখন মনে হয়
এই বুঝি হারিয়ে গেলাম
মহা অন্ধকারের গুহায়।
দূরু দূরু কাঁপে বুক!
ভাবি
হাজার বছরেরও বুঝি শেষ হবে না এ আঁধার!
আর রুজি নিস্তার নেই!
আর বুজি মুক্তি নেই!
অথচ পৃথিবীর সব টানেলের দৈর্ঘ্য খুব সামান্যই।
আর তার সাথে থাকা আঁধারের স্থায়িত্ব ঐটুকুই।
স্বল্প দৈর্ঘ্যের সে টানেলগুলো
কখনোই গিলে খেতে পারে না
গন্তব্যের পানে ছুটে চলা কোনো রেলগাড়িকে।
------------
আঁধারের দৈর্ঘ্য ও স্থায়িত
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
১৭ ফেব্রুয়ারি ২৬


0 মন্তব্যসমূহ