Ticker

6/recent/ticker-posts

আলোকচিত্রশিল্পী প্রাণতোষ চৌধুরী-জয়দুল হোসেন

 


আলোকচিত্রশিল্পী প্রাণতোষ চৌধুরী
জয়দুল হোসেন

প্রাণতোষ চৌধুরীর পিতা রাধাচরণ চৌধুরী খ্যাতিমান আইনজীবী ছিলেন। একজন আইনজীবীর ছেলে আইনজীবী না হোক, অন্তত শিক্ষক বা অন্য কোনো চাকরিজীবী হতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা হলেন না, হলেন আলোকচিত্রজীবী বা ফটোজীবী। স্বাধীন পেশা পিতার মতোই।

এই আলোকচিত্র বা ছবি নিয়ে খেলা করা বাল্যকালে তাঁর নেশা ছিল। পরিণত বয়সে এই নেশাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। নেশার সাথে যদি পেশা মিলে যায় তবে তা ষোলোকলায় পরিপূর্ণ হয়। প্রাণতোষ চৌধুরীর ক্ষেত্রে তা-ই হয়েছে।

বাল্যকালে অনেকটা শখের বসেই ছবি উঠাতেন। এই করতে করতে কখন যে পেশাদার আলোকচিত্রী হয়ে উঠলেন তা তিনি নিজেও টের পাননি। কথা প্রসঙ্গে প্রায়ই বলেন, 'এটা ভগবানের ইচ্ছা। ভগবান আমাকে সৃষ্টি করেই একটা ‘ভেদা' দিয়ে বললেন, নে- তোর ভাগ্যে ক্যামেরা।' এই নিয়ে অনেক হাসাহাসি এবং রসিকতা হয়েছে।


প্রাণতোষ চৌধুরী একজন রসিক মানুষ। রসিকতা করে সহজেই লোকজনকে হাসাতে পারেন। বাল্যকালে সংগীতচর্চা করেছেন। সংগীতের ওপর তাঁর অগাধ দক্ষতা। তবে সঙ্গীতচর্চাটাকে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে হিসেবে গ্রহণ করেননি। যদি করতেন তবে তিনি ভালো একজন ওস্তাদ হতে পারতেন। তিনি কী হতে পারতেন সেটি বড় কথা নয়, বড় কথা হলো কী হয়েছেন সেটি তিনি একজন আলোকচিত্র শিল্পী হয়েছেন। আলোকচিত্রী অনেকেই হতে পারেন কিন্তু আলোকচিত্রশিল্পী কয়জন আছে বাংলাদেশে? খুব বেশি না। হাতে গোনা কয়েকজন। ঐ কয়েকজনের একজন তিনি। তার এই শিল্প মাধ্যমটি প্রচার পায়নি। মফস্বল থাকার কারণেই এমনটি হয়েছে। সুবল দাস তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি দেশের একজন প্রখ্যাত সুরকার। সিনেমায় প্রচুর সঙ্গীতে সুর দিয়েছেন। তিনি চাচ্ছিলেন প্রাণতোষ চৌধুরী ঐ সিনেমার আলোকচিত্রী হোক। কিন্তু তিনি ঢাকায় যাননি। যদি যেতেন তবে তাঁর নামটি আরও বেশি প্রচারিত হতো। প্রাণতোষ চৌধুরী যখন আলোকচিত্র শিল্পে কাজ করেছেন, তখন ছিল সাদা-কালোর যুগ। সিনেমাও সাদা-কালো ছিল। ঐ সাদা কালোর যুগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একমাত্র প্রাণতোষ চৌধুরীই শিল্পিত আলোকচিত্র ধারণ করতেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তখন যারাই শৌখিন ছিলেন তাঁদের প্রায় সকলেই প্রাণতোষ চৌধুরীকে দিয়ে ছবি উঠিয়েছেন। প্রশাসন বা কোনো প্রতিষ্ঠানের ম্যাগাজিন করতে হলে প্রাণতোষ চৌধুরীকে সেই ছবি ধারণ করিয়েছেন। সভা-সমাবেশ বা কোনো অনুষ্ঠানের ছবি ধারণ করতে হলে প্রাণতোষ চৌধুরীর ডাক পড়তো সবার আগে। তখনকার সময়টা এখনকার মতো এতো সহজ ছিল না। ঐ সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা যাদের নেই তারা বিষয়টি কল্পনাও করতে পারবেন না যে অবস্থাটা তখন কত কঠিন ছিল। আমার মতন ক্ষুদ্র জ্ঞানে তা লিখেও বোঝাতে পারবো না। অবস্থাটা এমন ছিল যে বাজার থেকে সাদা-কালো ফ্লিম কিনে নিয়ে ক্যামেরায় ঢোকানো হতো। তারপর ছবি উঠানোর পর ডার্ক রুমে গিয়ে সেটি ডেভেলাপ করা হতো। ডেভেলাপ করার আগে ফিল্মের মধ্যে কোনো অবস্থায়ই আলো লাগতে পারবে না। সম্পূর্ণ অন্ধকার রুমে সেটি ডেভেলাপ করতে হতো। আর যে মিডিসিন বা পদার্থ দিয়ে ফিল্ম ডেভেলাপ করতে হতো সে মিডিসিন কোনটা কী পরিমাণে দিতে হবে এবং কতক্ষণ সময় ধরে তা ডেভেলাপ করতে হবে সে অঙ্কটি ছিল খুবই কঠিন। একটু এদিক সেদিক হলেই সবকিছু নষ্ট হয়ে যেতো। বিষয়টা অঙ্কের মতন গুণে গুণে করতে হতো। এখনকার মতো মেমোরি কার্ড তখন ছিল না। ছবি ধারণ করার বিষয়টিও এত সহজ ছিল না। সেই কঠিন কাজেই পারদর্শী ছিলেন প্রাণতোষ চৌধুরী। 


ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরটা তখন একান্তভাবেই ভদ্রলোকের শহর ছিল। অথবা সমাজের সুশীল লোকেরা অবসর সময়ে একসাথে বসে গল্পগুজব করতেন, আড্ডা দিতেন। সেই সুশীল সমাজের আড্ডাটা এখন আর নেই, হারিয়ে গেছে, অনেকটা কফি হাউজের মতোই।

সেই সুশীল সমাজের লোকেরা যে-সব জায়গায় বসতেন সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্তমান ডা. ফরিদুল হুদা রোডের স্টল, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের অফিস, সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তন, কোর্ট রোডে বর্ণমালা প্রেস, সঙ্গীত সংসদ, আর্টস কাউন্সিল, রেকটো এসব জায়গায় ঘুরেফিরে যারা একসাথে বসতেন। আড্ডা দিতেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ হলেন অধ্যক্ষ মিন্নাত আলী, অধ্যাপক হরলাল রায়, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি মতিউল ইসলাম, কথাশিল্পী আহমদ ছফা তখন কয়েক বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছিলেন। কবি তিতাস চৌধুরী, কবি এ কে এম হারুনুর রশীদ, প্রাবন্ধিক গবেষক শান্তনু কায়সার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে শিক্ষকতা করতেন), গল্পকার মুহম্মদ সিরাজ, কবি খুরশেদুল ইসলাম, ডা. ফরিদুল হুদা, ডা. চণ্ডীপদ চক্রবর্তী, প্রমুখসহ আরও অনেকেই ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একমাত্র কবি আসাদ চৌধুরী ছাড়া আর কেউই আজ আর বেঁচে নেই। তাঁদের প্রত্যেকের সাথেই প্রাণতোষ চৌধুরীর একান্ত বন্ধুত্ব ছিল। এতগুলো গুণী লোক এখন আর একসাথে পাওয়া যাবে না। প্রাণতোষ চৌধুরী সেই পরিবেশেই বিচরণ করেছেন।

পোশাক-আশাক এবং চালচলনে অত্যন্ত শৌখিন মানুষ তিনি। নিয়মিত পায়জামা-পাঞ্জাবি পরেন। সদ্য পাট ভাঙা, ইস্ত্রি করা পোশাক ছাড়া তিনি ঘর থেকে বের হতেন না, অর্থাৎ কোনো অনুষ্ঠানে যেতেন না। বর্তমানেও সেই নিয়মটি ধরে রেখেছেন। কাপড় ময়লা হওয়ার আগেই পুনরায় ধোলাই করেন, ইস্ত্রি দেন, তারপর পরিধান করেন। লম্বায় প্রায় ছয় ফুটের কাছাকাছি গায়ের রঙ ফরসা, সবকিছু মিলিয়ে একজন সুপুরুষ প্রাণতোষ চৌধুরী। প্রত্যেকের জীবনেই একবার না একবার প্রেম আসে। প্রেম মানে ভালোবাসা, মানে নর-নারীর প্রেম। প্রেমে অনেকেই সফল হন না, তাই অসফল প্রেম প্রকাশও হয় না। ব্যর্থ প্রেমের গ্লানি নিয়ে অনেকেই জীবন কাটায় কিন্তু প্রকাশ করেন না। কয়েক বছর পর সবকিছু ভুলেও যান। প্রাণতোষ চৌধুরীর জীবনেও একবার সেই প্রেম এসেছিল। কিন্তু প্রাণতোষ চৌধুরী তা ভুলে যাননি। প্রসঙ্গ উঠলেই অনর্গল স্মৃতিচারণ করতে থাকেন। তাঁর ওই প্রেম ছিল পবিত্র প্রেম। তাই তো তাকে তিনি ভুলতে পারেন না। ভালোবাসার প্রসঙ্গ আসলেই তিনি বলেন, 'ভালোবাসা মানে ভালোতে বাস করা। তোমরা যদি ভালোতে বাস করো তবেই ভালো থাকতে পারবে।' 'আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি, তবু মনে হয় এ যেন গো কিছু নয়, কেন আরও ভালোবেসে যেতে পারে না হৃদয়।' মানবেন্দ্ৰ মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া এ গানটি তাঁর প্রিয় গান। এই গানটি যে সেই কালে মুখস্থ করেছিলেন এখনো তাঁর স্মৃতিতে অটুট। কেউ অনুরোধ করলেই এ গানটি তিনি নিখুঁতভাবে গেয়ে শুনান।


পারিবারিক এবং সংসার জীবনে তিনি খুবই সুখী। স্ত্রী ছেলে- মেয়ে নিয়ে তিনি সুখেই বসবাস করছেন। তাঁর বর্তমান বয়স ৮৭ বছর। তাঁর সময়কালের অনেকেই আজ আর নেই। তবুও বলি তিনি শতায়ু হোন।


অজাতশত্রু মানুষ তিনি। জীবনে তিনি কারও সঙ্গে ঝগড়া করেছেন, একথা কেউ বলতে পারবেন না। কেউ তাঁকে গালি দিলে তিনি তা হাসিমুখে প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে লজ্জা দিয়েছেন। এমনি প্রাণখোলা এবং দীলখোলা মানুষ তিনি যে যাকে বা বলবার তা সরাসরিই বলে ফেলেন। কোনরূপ লুকোচুরি তার মধ্যে নেই। প্রয়োজনে প্রাণখুলে হাসতে পারেন তিনি।

ভোজ বিলাসী এবং অতিথিপরায়ণ মানুষ তিনি। কাউকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতে খুব ভালোবাসেন। আর সেই খাবার যেন সুরুচিপূর্ণ এবং বহু প্রকার আইটেমে হয় সেদিকে সবসময়ে নজর রাখেন। নিজের বাড়ির কোনো অনুষ্ঠানে যেমন তেমনি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানেও। সাহিত্য একাডেমির উদ্যোগে প্রতিবছর সাধারণ সভার সদস্য ও অতিথিদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজন যেন সুরুচিপূর্ণ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে হয় সেদিকে তিনি নিজে থেকেই লক্ষ্য রাখেন। অনুষ্ঠানের প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই তিনি এ ব্যাপারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাই তার আয়োজন এবং আপ্যায়নে সবাই প্রশংসা করেন। অনেকে এই অনুষ্ঠানটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। তাঁর ছেলে মেয়েদের বিয়ের অনুষ্ঠানেও যেভাবে অতিথি আপ্যায়ন করেছেন তা প্রশংসার দাবিদার। যারা সেসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।

প্রাণতোষ চৌধুরী অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ মানুষ। ধর্মকর্মে খুবই মনোযোগী। নিজের ধর্ম যেমন নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন, তেমনি অন্যের ধর্মের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। কোনো ধর্মই অশ্রদ্ধার নয়, একথা তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। নিজে যেমন ধর্মকর্ম করেন, অন্য ধর্মের লোকজনকেও ধর্মকর্ম করার জন্য উপদেশ দিয়ে থাকেন। আল্লাহ এবং ভগবানের মধ্যে তিনি কোনো পার্থক্য

করেন না, বলেন, যিনি আল্লাহ তিনিই ভগবান। নিজ ধর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান হয়েও অন্যের ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধাশীল। সম্পূর্ণভাবেই এবং আপাদমস্তক তিনি একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ। বঙ্গবন্ধু যে ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেক্যুলারিজমের কথা বলেছেন সে আদর্শ তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণভাবেই বিদ্যমান। স্বামী বিবেকানন্দের মতোই তিনি বিশ্বাস করেন, 'যে কোনো ধর্ম বা যে কোনো ভাষাই ঘৃণ্য বা অশ্রদ্ধার নয়।'



কথা প্রসঙ্গে তিনি প্রায়ই বলেন, 'বৃক্ষের মতো স্থির হও, তৃণ অপেক্ষা সহনশীল হও।' একথা তিনি কেবল মুখেই উচ্চারণ করেন না, পালনও করেন। কবির বাণী উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, 'মহাজ্ঞানী মহাজন যে পথে করেছে গমন...ইত্যাদি। তিনি মহা পুরুষ নন, তবে মহাপুরুষের গুণাবলি কিছু না কিছু তাঁর মধ্যে বিদ্যমান।

শিল্প সংস্কৃতির অঙ্গনে প্রাণতোষ চৌধুরীর বিশেষ অবদান রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় সংগঠনের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। অত্যন্ত ধীর-স্থির এবং শান্ত প্রকৃতির মানুষ তিনি। জীবনে অনেক দুঃখ দেখেছেন কিন্তু তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন, কঠিন জীবন দেখেছেন কিন্তু সারল্য ত্যাগ করেননি। অনেক বাধা-বিপত্তি ও বৈরিতার সম্মুখীন হয়েছেন, কিন্তু মনোবল হারাননি। অনেক দুর্ভিক্ষ ও আকাল দেখেছেন। সেগুলোও মোকাবিলা করেছেন। রুজি করেছেন সৎ পথে। কঠিন অভাব অনটনের সময়েও সততাকে ত্যাগ করেননি। অসৎপথে প্রাচুর্যের হাতছানি তাঁকে স্বীয় আদর্শ থেকে নড়াতে পারেনি। জীবনে এখন আদর্শকে লালন করতে পেরেছেন বলেই সমাজের সকলেই তাঁকে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আনন্দময়ী কালীবাড়ির স্ট্রিবোর্ডের সভাপতি হয়ে তিনি বেশ দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। একথা কালীবাড়ি সংশ্লিষ্ট সকলেই একবাক্যে স্বীকার করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। তাঁর পরিকল্পনা ও কর্মদক্ষতায় কালীবাড়িটি বর্তমানে বেশ সুন্দর এবং সুপরিপাটি। ঈশ্বরও পবিত্রতা ভালোবাসেন। পবিত্র জায়গায়ই ঈশ্বরের আগমন ঘটে। ঈশ্বর তাঁর মঙ্গল করুন।


পরিশেষে বলতে চাই মানুষকে ভালোবাসেন তিনি। কথায় কথায় বলেন, রোগটাকে ঘৃণা করো, রোগীকে নয়।' অর্থাৎ মানুষটির মধ্যে যে দোষটি রয়েছে সেটিকে ঘৃণা করো, মানুষটিকে নয়। মানুষটির সে দোষটি সারিয়ে তোলার চেষ্টা করো।

এখানেই মানুষের প্রতি তাঁর প্রকৃত ভালোবাসা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে ভালোবাসেন তিনি। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো গুণ রয়েছে। সেই গুণটাকে ভালোবেসে দোষটার নিরাময় চেয়েছেন সারা জীবন। 

১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ডিসেম্বর, মোতাবেক ১৩৪১ বঙ্গাব্দ ২৪ অগ্রহায়ণ সোমবার তিনি জন্মগ্রহণ করেন। সেই হিসেবে তাঁর বর্তমান বয়স ৮৭ বছর। কে যেন বলেছেন, ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা রবে?' তাঁকেও হয় তো একদিন মরতে হবে। তখন যে শূন্যস্থান সৃষ্টি হবে সেটি পূরণ হবার নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনি একজন আলোকিত মানুষ। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো ব্যাপারে স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। তাঁর স্বাতন্ত্র্য তাঁর মধ্যেই বিদ্যমান, তিনি আমাদের সময়ের একটি বাতিঘর। সেই বাতিঘরটি প্রতিনিয়ত আলো ছড়াচ্ছে। তাঁর আলোয় আলোকিত তাঁর সমাজ, সংসার পরিবার পরিজন। 

----------

লেখক : জয়দুল হোসেন, কবি ও গবেষক, সভাপতি : সাহিত্য একাডেমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

গ্রন্থ: স্বরূপ-অরূপ প্রাণতোষ চৌধুরী’ সম্পাদক : মানিকরতন শর্মা, প্রকাশ, ফেব্রুয়ারি ২০২১, পৃষ্ঠা-১২-১৬।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব, প্রয়াত আলোকচিত্রশিল্পী প্রাণতোষ চৌধুরীর ৯১তম জন্মদিন আজ। জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য স্বরূপ প্রাণতোষ চৌধুরী দীর্ঘদিনের সহযাত্রী কবি ও গবেষক জয়দুল হোসেন-এর লেখাটি অনলাইন পাঠকদের উদ্দেশে অবমুক্ত হলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ