প্রতিদিন কত মানুষ কতভাবে মৃত্যুবরণ করে। সব মৃত্যু আমাদের মনকে নাড়া না দিলেও কিছু কিছু মৃত্যু আমাদের মনকে নাড়া দিয়ে যায়। অরিত্রীর আত্মহত্যা আমাদের কি কিছু শিক্ষা দিয়ে গেলো না?
কেন এটা করলো অরিত্রী?
আসলে জীবন মানে যে সুখ-দুঃখের মেলবন্ধন, বাধা-বিপত্তি আর প্রতিকূলতা পাশ কাটিয়ে “লক্ষ্য” অর্জন করার নামই যে সফলতা, সেটা হয়ত অরিত্রী জানে না। অরিত্রী যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ে সে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা পাঠ্যক্রম হয়ত অরিত্রীকে তা শিক্ষা দেয়নি। এমন শিক্ষা হয়ত তার দেশেও নেই। তাই এরকম পরিস্থিতিতে অরিত্রী আত্মহত্যাকেই একমাত্র পথ ভেবে নিয়েছে। তার মনোবল এতটা শক্ত ছিলো না যে, বাবা-মার অপমান হজম করে নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে।
আমাদের নতুন প্রজন্মের আর কতজন শিক্ষার্থী এমন দুর্বল মনোবল, হীনচেতা মনোভাব নিয়ে বড়ো হচ্ছে তার হিসাব কার কাছে আছে? কে জানে কতজন শিক্ষার্থী তার মনের মধ্যে কত ঝড়-তুফান নিয়ে বড়ো হচ্ছে, কত জন শিক্ষার্থী কত সমস্যার সমাধান না পেয়ে মনে মনে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে!
তাই নিজের সন্তানকে সময় দিন, তাকে আপনার এমন বন্ধু বানান, যাতে সে মনের মধ্যে কোনো অসংকোচ বয়ে না বেড়ায়। নিঃসংকোচে আপনাকে বলতে পারে মনের মধ্যে জমানো কোনো ব্যথার কথা। মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই আপনার সন্তানের সমস্যার জানার চেষ্টা করুন এবং তা সমাধানের চেষ্টা করুন, তার মনোবল বৃদ্ধি করুন।
তাকে বলুন যে, হাসিকান্না, সুখ-দুঃখ মিলেই জীবন। যার হাসি নেই সে মৃত, যার দুঃখ নেই সেও মৃত্য। তাকে বলুন, আজকের পৃথিবীতে যারা সফলতার উচ্চ শিখরে অবস্থান করছে তারা সবাই অনেক প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে, বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করে, জীবনের সাথে লড়াই করে, সংগ্রাম করেই সফলতা অর্জন করেছে। আমাদের সবাইকেও সে পথেই চলতে হবে।
০৪ ডিসেম্বর ১৮
0 মন্তব্যসমূহ