Ticker

6/recent/ticker-posts

কবি, অনুবাদক ও সাংবাদিক রথো রাফি

 


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান, কবি, অনুবাদক ও সাংবাদিক Rotho Rafi আজ মৃত্যুবরণ করেছেন।

কবি,অনুবাদক ও সাংবাদিক রথো রাফি (মোজাম্মেল হক) ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় জন্ম নেন। শিক্ষক-মৌলানা আবুল কাশেম সাহেবের বড় সন্তান রথো রাফি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রসায়ন শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। রসায়নের ছাত্র হলেও তাঁর ঝোঁক ছিল লেখার প্রতি। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সফল সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। 

গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বাংলা কবিতায় কবি হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। দেশীয় কবিতার পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার কবিদের কবিতা তিনি খুব চমৎকার ও সাবলীলভাবে বাংলায় রূপান্তর করতেন।

রথো রাফির সাহিত্যিক জীবনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী এবং উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল বই প্রকাশে তীব্র অনীহা। তিনি প্রচারবিমুখ ছিলেন এবং লাইমলাইটে আসতে চাইতেন না। দীর্ঘ দুই দশক ধরে কোনো একক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ না করেই তিনি বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন ও সাহিত্য সাময়িকীতে নিয়মিত লিখতেন। এর মাধ্যমেই তিনি সমকালীন বাংলা কবিতায় নিজের একটি শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। 

রথো রাফির জীবনের প্রথম ও একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘অক্ষর ও বালির পৃথিবী’ । দীর্ঘ অনীহার পর অবশেষে ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আনন্দম প্রকাশনী থেকে ৪৩২ পৃষ্ঠার এই বিশালাকার বইটি প্রকাশিত হয়। এই বইটিতে ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছরে তাঁর লেখা দুই শতাধিক কবিতা সংকলিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে বেশ আচ্ছন্নতা তৈরি করেছিল। 

তাঁর প্রকাশিত কবিতাগুলোর মধ্যে 'অক্ষর ও বালির পৃথিবী', 'বারোমাস্যা' প্রভৃতি বেশ সাড়া জাগায়। এছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর '১০ কবিতা', 'গুচ্ছ কবিতা' শিরোনামে প্রকাশিত লেখাগুলো আধুনিক কবিতার পাঠকদের কাছে সমাদৃত। তাঁর কবিতার ভাষা ছিল অলঙ্কারহীন অথচ অসম্ভব রকমের প্রগাঢ় ও নিজস্ব শৈলীতে ভরপুর। 

আজ ২২ অক্টোবর ২০২৬ ফুসফুস ও কিডনির জটিলতায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। তাঁর অকাল প্রয়াণ বাংলা কবিতার জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। 

আগামীকাল ২৩ অক্টোবর ২০২৬ বাদ জুম্মা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দক্ষিণ তারুয়া ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে বাবা ও মায়ের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

গত ১৫ অক্টোবর কবির ফেসবুকে প্রকাশিত সর্বশেষ কবিতাটি পাঠকের উদ্দেশ্যে নিচে যুক্ত করা হলো :

মন ডাকে, আমিও না?

রথো রাফি

বৃষ্টি পড়ে মাথার ওপর, ছাতার ওপর,

ছাদের ওপর, চাঁদের নিচে, অথচ এ ছাতায়,

দেখো, কাজ হচ্ছে না, ছাদ মানছে না,

চাঁদ ভিজছে না তো। বৃষ্টি পড়ছে, আহ, হৃদয়ে

স্মৃতিতে, ঢেউ উঠছে মনের পুকুরে,

তোমাকে ভীষণ ডাকছে, ওপরে ভেসে

ওঠো ভেনাস, আমি তো শূন্য কলসির

মতো বাজছি তৃষ্ণায় অবিরাম বৃষ্টির

আনুশকা আঙ্গুলে। তুমি কি চাও না

বিন্দু বিন্দু চাঁদ আজ রাতে ঝরে পড়ুক

শরীরে আমার, তোমার আবেশে, এই

বৃষ্টিতে, তুমি কি চাও না ঘামের হীরে

ঝলমল করুক? অন্তত একবার বুঝে

নিই ছাতার অর্থ কি, ছাদের অর্থ কি,

চাঁদের অর্থ কি, বলো হে ভেনাস আমার,

ঝরবে না, এমন একাকি বৃষ্টির রাতে,

অন্তরের ছাতাটি কি, বলো, হবে না তুমি?

বৃষ্টিতে আরও টলমল করছে দুঃখের

নদী, অথচ তুমি উঠছো না ঢেউ ছেড়ে।

যদি দেখতে ভেনাস বৃষ্টিজামার মতো

অন্তর কেমন ভিজে শপ শপ, হায়,

জন্মে মন শরীরে, বাতাসে কতো নড়ে!

১২ অক্টোবর, ২০২৫


(লেখা সংগৃহীত ও সম্পাদিত : শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ