আজ ধর্মতীর্থ গণহত্যা দিবস
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার কবলিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় প্রায় ২০টি স্থানে বেশ কিছু গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। এরমধ্যে ধর্মতীর্থ গণহত্যা একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ধর্মতীর্থ এলাকায় ১৯৭১ সালের ১৮ অক্টোবর একদিনে প্রায় শতাধিক বাঙালিকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসর, রাজাকার ও আলবদরের সদস্যরা। নিহতদের মধ্যে ৪৯ জনের নামের তালিকা পাওয়া গেলেও অসংখ্য লোকের নাম আজও অজানায় থেকে গেছে ।
ধর্মতীর্থ গণহত্যা নিয়ে গবেষণা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, কবি জয়দুল হোসেন। গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট কর্তৃক ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থে এই বিষয়ে ব্যাপক বর্ণনা রয়েছে।
ধর্মতীর্থ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শহিদদের স্মরণ করতে বইটির উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো।
ধর্মতীর্থ গণহত্যা-নির্যাতনের বিবরণ
জয়দুল হোসেন
ধর্মতীর্থ ঘাট ছিল নির্জন এলাকা। ১৯৭১ সালের বিভিন্ন সময় সরাইল উপজেলার ধর্মতীর্থ ঘাটে ও তার আশপাশ এলাকায় গণহত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরে নেওয়া অগণিত লোককে এখানে হত্যা করে বিলের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চুন্টা গ্রামের ২২ জন এবং কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ২৭ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এখানে নিহত অন্যরা বিভিন্ন এলাকার হওয়ায় তাদের পরিচয় জানা যায়নি। বহুদিন পর্যন্ত বিলের পানিতে লাশ ভেসে যেতে দেখেছে এলাকাবাসী। বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী সরাইল থানা ও কালীকচ্ছ ক্যাম্পে আটক রাখত। কাউকে কাউকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কুমিল্লায় পাঠিয়ে দিত। অনেককে সঙ্গে সঙ্গে হত্যা করত।
১৬ অক্টোবর শনিবার দুপুরে চুন্টা গ্রামে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা বিভিন্ন বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং বাড়িঘর লুট করে। গ্রামের পরিমল দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন এবং লোপাড়া পাড়ার বাদশা মিয়ার বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়। এছাড়াও গ্রামের বহু বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গ্রামের ওপর দিয়ে তখন আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া উড়তে থাকে। সারা গ্রামে তখন মানুষের হাহাকার এবং আর্তচিৎকার শুরু হয়ে যায়।
এরই মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে আক্রমণ চালিয়ে ৩১ জন গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৮ জন তিনদিন পর বাড়িতে ফিরে আসে। বাকিরা হত্যার শিকার হয়। তাদেরকেসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরে নেওয়া শতাধিক লোককে ১৮ অক্টোবর রাতে কালীকচ্ছ গ্রামের উত্তর দিকে ধর্মতীর্থ ঘাটের বিলের পাশে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ধর্মতীর্থ ঘাটের পাশে কালীকচ্ছ শ্মশানঘাটে হত্যা করা হয়েছে সাতজনকে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশ শ্মশানঘাটে পড়ে থেকে পচে-গলে নিঃশেষ হয়েছে। সরাইল-কালীকচ্ছ এলাকার গোপালচন্দ্র দেব, যোগেশ চৌধুরী, জীবেশবন্ধু চৌধুরী, প্রাণবন্ধু চৌধুরী, ধরণী দেব, প্রাণকুমার সেন, বৈরাগী সেন, নীরোদ দাস, ধীরু দাস, গোপালের বাবা, ধনঞ্জয় দাস, নীলমণির ভাই, কালাচান গোসাই, প্রিয়নাথ রায় প্রমুখকে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারা আর ফেরত আসেনি।
১৯৭১ সালের ১৬ অক্টোবর পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে চুন্টা ইউনিয়ন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান এমদাদুল হক টাক্কাবালী পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের নিয়ে তার নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আক্রমণ চালায়। তারা ১৪টি বাড়িতে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে ফেলে। ৪০টি বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালায়। বেছে বেছে হিন্দু বাড়িগুলোতে আক্রমণ চালিয়ে লুটপাট করে। যাকে সামনে পায় তাকেই ধরে বেঁধে ফেলে। পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্য ও রাজাকাররাই এ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। টাক্কাবালী ছিল অরুয়াইল, পাকশিমুল ও চুন্টা এলাকার পাকিস্তানি বাহিনীর একচ্ছত্র দোসর ও দালাল। তার পরিকল্পনা ও পরামর্শ মোতাবেকই পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা চুন্টা এলাকায় আক্রমণ করেছিল। এই আক্রমণে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই ধরে নিয়ে ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন করেছে। এরপর বহুদিন পর্যন্ত তাদের লাশ কুইট্টার বিলে ও মচাহাটি গাঙে তথা তিতাস নদীতে ভাসতে দেখা গেছে।
ধর্মতীর্থ ঘাটে রাজাকার বাহিনীর চেকপোস্ট বা তল্লাশি কেন্দ্র ছিল। তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সরাইলসহ আশপাশ এলাকা থেকে নাসিরনগরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌপথ। যাতায়াতের সময় ধর্মতীর্থ ঘাটে রাজাকাররা যাত্রীদের চেক করত। কাউকে সন্দেহ হলে আটক করে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিত। সেখান থেকে কেউ কেউ ছাড়া পেয়েছে, কেউ কেউ হত্যার শিকার হয়েছে। এভাবেই রাজাকাররা ধর্মতীর্থ ঘাটে যাত্রীদের হয়রানি ও নির্যাতন করেছে।
চুন্টা সেনবাড়িতে ছিল রাজাকার ক্যাম্প। শান্তি কমিটির আহ্বায়ক টাক্কাবালীর নেতৃত্বে বাড়িটি দখল করে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। বাড়ির বাসিন্দা প্রায় সকলকেই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কাউকে কাউকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই রাজাকার ক্যাম্প থেকেই সারা চুন্টা এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর লুট করা হয়েছে। লুটের সময় যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই ধরে নিয়ে নির্যাতন করেছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গ্রামের প্রায় সকল হিন্দু পরিবার সবকিছু ফেলে রেখে ভারতে চলে গিয়েছিল। যারা যেতে পারেনি বা শেষ পর্যন্ত যারা পালিয়ে থেকে গ্রামে অবস্থান করছিল তাদের মধ্য থেকে ২২ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
কালীকচ্ছ ঘাঁটিবাড়িতে ছিল রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীর যৌথ ক্যাম্প। এ বাড়িটির আয়তন (৩০ একর ৬৯ শতাংশ) এত বিশাল যে পরবর্তী সময়ে শুধু এ বাড়িটিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ক্যাম্প। ১৯৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সরাইল এলাকা হানাদার কবলিত হওয়ার পরপরই বাড়ির লোকজন সবকিছু ফেলে রেখে ভারতে চলে গিয়েছিল। ঐ বাড়িটি দখল করে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। আর ঐ ক্যাম্প থেকেই কালীকচ্ছ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন ও গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বহু লোককে কালীকচ্ছ ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। রাজাকাররা এলাকার হিন্দু বাড়িগুলো লুট করেছে। কোনো কোনো বাড়ি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, নির্যাতনের ভয়ে এলাকার বহু হিন্দু পরিবার সবকিছু ফেলে রেখে শুধু প্রাণ নিয়ে ভারতে চলে গিয়েছে। কেউ কেউ মাথায় টুপি পরে এবং দাড়ি রেখে মুসলমান সেজেছে। তবু পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পায়নি। কালীকচ্ছ গ্রামের বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের ভাতিজা শিবু দত্তসহ ৮ জন হিন্দু লোককে ধরে নিয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আটক রেখে নির্যাতন করেছে। দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করার পর তারা ছাড়া পেলেও ছাড়া পায়নি বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরে নেওয়া কালীকচ্ছ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অসংখ্য হিন্দু-মুসলমান। তাদেরকে ধর্মতীর্থ ঘাটে ও কালীকচ্ছ শ্মশানে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
কালীকচ্ছ ঘাঁটিবাড়ি ক্যাম্পে নারী-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বহু মহিলাকে এখানে আটক রেখে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। কালীকচ্ছ গ্রামের কয়েকজন মহিলাকেও এই ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলে বাউল শিল্পী দুর্গাচরণ দাস জানিয়েছেন।
কালীকচ্ছ ও চুন্টা এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের আক্রোশ ছিল মুক্তিযোদ্ধা ও হিন্দুদের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে না পেয়ে তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ধরে নিয়ে অত্যাচার ও নির্যাতন করেছে। হিন্দুদের মধ্য থেকে যাদেরকে বাড়িতে পেয়েছে তাদেরকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। তাদের বাড়ির মালামাল লুট করে নিয়ে ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কোনো কোনো হিন্দু বাড়ি দালাল ও রাজাকাররা দখল করে নিয়েছিল। চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শান্তি কমিটির আহ্বায়ক এমদাদুল হক টাক্কাবালী এসি একাডেমির (চুন্টা অবিনাশচন্দ্র সেন উচ্চ বিদ্যালয়) ৩০ বিঘা বাড়ি, পুকুর ও জমিজমাসহ কয়েকটি হিন্দুবাড়ি দখল করে নিয়েছিল। চুন্টা দক্ষিণেশ্বরী কালীমন্দিরের ১০-১২ বিঘা জমিও টাক্কাবালী দখল করেছিল।
১৬ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা চুন্টা গ্রামে যখন আক্রমণ চালায় তখন গ্রামের কেউ পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিল, কেউ দুপুরের খাবার খাচ্ছিল, আর কেউ কেউ ব্যক্তিগত কাজকর্মে ব্যস্ত ছিল। ঠিক তখনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকাররা চুন্টা গ্রামে আক্রমণ করেছিল। গ্রামের লোকজন তখন ভয়ে পালাতে থাকে। কেউ পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কেউ দৌড়ে পালিয়ে যায়, আর কেউ কেউ বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ে বা ঘরের ভেতরে চৌকির নিচে বা ধান রাখার ডোলের ভেতরে লুকিয়ে থেকে প্রাণ রক্ষার চেষ্টা করে। তবু তাদের মধ্য থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু লোককে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকাররা। এলাকার সাধারণ মানুষ, হিন্দু-মুসলমান মিলিতভাবে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করে। শান্তি কমিটির আহ্বায়ক টাক্কাবালীর কাছে ধরনা দেয়। টাক্কাবালী তাদেরকে ছাড়িয়ে আনার আশ্বাস দেয় কিন্তু ছাড়িয়ে আনা হয়নি। আটক গ্রামবাসীকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলে রাজাকাররাও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। খাবার ও কাপড় সরবরাহের কথা বলেও কেউ কেউ টাকা নিয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। ১৮ অক্টোবর রাতে ধর্মতীর্থ ঘাটে নিয়ে তাদেরকেসহ বহু লোককে হত্যা করা হয়।
এর মধ্যে চুন্টা গ্রামের কমলা রঞ্জন দেব, লালচান নমশূদ্র, ভাগিরত দেবনাথ, হারাধনচন্দ্র বিশ্বাস, কানাইলাল পাল, যামিনী পাল প্রমুখসহ কয়েকজন ভাগ্যক্রমে বধ্যভূমি থেকে বেঁচে এসেছিলেন। কালীকচ্ছ গ্রামের আনন্দ দাস বধ্যভূমিতে গুলিবিদ্ধ হয়েও মারা যানি। তার কোমরের সঙ্গে অন্যদের কোমর বাঁধা ছিল। তাই বাঁধন খুলতে না পেরে বধ্যভূমি থেকে পালাতে পারেননি। আহত অবস্থায় গোঙাচ্ছিলেন। পরদিন সকালবেলা বিলের পাড়ের মকসুদ আলী তার গোঙানি শুনে বধ্যভূমি থেকে উদ্ধার করে তাকে নৌকা দিয়ে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এলাকার রাজাকারদের মাধ্যমে এখবর জানতে পেরে পাকিস্তানি সৈনিকরা পুনরায় তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে বাড়ির পাশেই জগারপাড় ব্রিজের নিচে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যা করেছে।
চুন্টার ঘাগরাজুর মহল্লার অধিরচন্দ্র দে-কে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের পর ছাড়া পেয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে এসে পাঁচ মেয়েকে নিয়ে অন্য গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেন। চুন্টা গ্রামের রজনীকান্ত সরকার ও তার ছেলে রনদা সরকারকে ভাত খাওয়া অবস্থা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রামের অমরেশচন্দ্র সেন সপরিবারে ভারতে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার বৃদ্ধ পিতা যোগেশচন্দ্র সেন ভারতে যেতে রাজি হননি। বাড়িতেই থেকে যান। তিনিও হত্যার শিকার হন।
ধর্মতীর্থ গণহত্যার পর সরাইলের চুন্টাসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের তৎপরতা বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় তারা ঘাতক-দালালদের ওপর আক্রমণ করতে থাকে। পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের বিভিন্ন ক্যাম্প এবং আস্তানাও মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। গ্রামাঞ্চলে পাকিস্তানি দালাল ও রাজাকারদের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চালায়। এমতাবস্থায় চুন্টা রাজাকার ক্যাম্প থেকে রাজাকাররা অন্যত্র চলে যায়।
ধর্মতীর্থ গণহত্যার ঘটনায় অগণিত শহিদসহ নির্যাতিত ও ভুক্তভোগীর সংখ্যা সহস্রাধিক। কালীকচ্ছ গ্রামের শহিদ বীরেন্দ্রচন্দ্র দাসের স্ত্রী স্বামীকে হারিয়ে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। সেই যে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে বাড়ি থেকে বেরুলেন আর ফিরে এলেন না।
তথ্যসূত্র : ধর্মতীর্থ গণহত্যা, জয়দুল হোসেন, প্রকাশ ২০১৮, পৃষ্ঠা ২১-২৫

0 মন্তব্যসমূহ