কখনো কখনো নিজের বয়স ভুলে কিশোর হয়ে যাই। হাত দুটোকে পাখা ভেবে, পাখির মতো উড়ি তাই। সংসার, কর্মব্যস্ততা ফেলে, কখনো কখনো হয়ে যাই বাউল। ভুলে যাই সমাজের বিধি-নিষেধ, রাঙানো চোখ, ধরবে কে আমাদের ফাউল? কখনো কখনো ছোট নায়ে, ছোট নদী, পাড় হতে আনাড়ি হাতে নিই ভাঙ্গা বৈঠা। তাইতো, কখনো কখনো আমাদের তেতো সময়গুলো হয়ে যায় মিঠা।
কিশোরগঞ্জের কবি আকিব শিকদার ভাই ও নরসিংদীর কবিমন কাওসার ভাই গত ১৯ অক্টোবর এসেছিলেন আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ঘুরে দেখতে। তাদের সঙ্গে নিয়ে এক বিকেলে নিজের শহরটাকেই যেন নতুন করে দেখলাম— দেখালামও একটু ভিন্ন রূপে।
আমাদের সঙ্গী হিসেবে যুক্ত হলেন কবি শরিফ উদ্দিন ভাই ও প্রিয় কবি ইসলাম তারেক। বিদায় বেলায় এসে যোগ দিলেন কবি শাদমান শাহিদ ভাই ও ইউনুস সরকার ভাই। শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও আত্মিক উপস্থিতি ছিল কবি শরীফ সরকার ভাইয়ের।
কবিমন কাওসার ভাই এর আগেও কয়েকবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসেছেন। আমার সাথেও দেখাও হয়েছে। তবে কবি আকিব শিকদার ভাইয়ের জন্য এটাই ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথম দর্শন। আকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় গত বছরের নভেম্বরে। সেদিন জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল অনুপ্রাণন-এর সাহিত্য সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
সেই অনুষ্ঠান সূত্রেই আমাদের পরিচয়। জাদুঘরের সামনে ফাঁকা অংশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম আমি ও কথাসাহিত্যিক আমির হোসেন স্যার। এর মধ্যে একজন তরুণ এগিয়ে এল। মুচকি হেসে আমাদের দিকে তার ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘আমি আকিব শিকদার’, আপনারা কোথায় থেকে এসেছেন?
এরপর কেটে গেছে প্রায় একটি বছর। মাঝখানে আমরা পরস্পর যুক্ত হয়েছি ফেসবুকে। এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের আর কখনো দেখা হয়নি, এমনকি মেসেঞ্জারেও কোনো কথা হয়নি। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার মাত্র দুদিন আগে ফোন করে আকিব ভাই জানালেন, পূজার ছুটিতে তিনি আমাদের শহরে আসতে চান। তার গলায় স্বরে ছিল না অপরিচিতের সংকোচ! যেন আসাটা তার অধিকার। আমি সানন্দে তাকে স্বাগত জানালাম।
সেদিন ছিল আমাদের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, একবারের জন্যও মনে হয়নি— এত দিন পর আমাদের দেখা হচ্ছে, কিংবা আমাদের পরিচয়টা খুব বেশি দিনের নয়। বরং মনে হচ্ছিল, আমরা যেন বহুদিনের চেনা, বহুদিনের আপন। কথায়, আড্ডায়, ভাবনার আদান-প্রদানে সেই দূরত্বটুকু কখন যে ঘুচে গেল, টেরই পেলাম না।
আসলে সাহিত্যের বন্ধন বোধ হয় এমনই। এখানে পরিচয়ের বয়স দিয়ে সম্পর্কের গভীরতা মাপা যায় না। কখনো কখনো একটি কবিতা, একটি ভাবনা কিংবা সাহিত্যের প্রতি অভিন্ন ভালোবাসাই মানুষকে মানুষের খুব কাছে নিয়ে আসে। কে যেন বলেছেন, ‘সাহিত্য আত্মার সঙ্গে আত্মার সম্বন্ধ ঘটায়।’ কথাটির সত্যতা সেদিন যেন নতুন করে উপলব্ধি করলাম।
তিতাসের তীরে তিন জেলার কবিদের রং চা আর দুধ চায়ের এই মধুর সমাবেশ আবারও ঘটুক। যেসব স্থান এখনো ঘুরে দেখানো হয়নি, সেগুলোও দেখতে হবে। যে সান্ধ্য-ট্রেন আপনাদের নিয়ে গেল, সেই ট্রেন যেন আবার আপনাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসবে—, এই প্রত্যাশায় রইলাম।
এক টুকরো ভ্রমণ স্মৃতি
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
২৭ অক্টোবর ২৬
কী কী দেখলাম, ছবির নিচে ক্যাপশন যুক্ত করা হলো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নৌাকায় তিতাসে
আমার পাঠকক্ষে
ঐতিহাসিক লোকনাথ দীঘির পাড়ে
দেড়শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনে
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস
কালভৈরব মন্দির ও পূর্ব মেড্ডা শ্মশান ঘাট
তিতাস নদীর তীরে
কাশিনগর গ্রামে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব ভবন ও রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট
সকলের প্রিয় স্থান বটতলা
ভাসছি তিতাস নদীর জলে
ভাসছি অদ্বৈত মল্লবর্মণ-এর তিতাসে
জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চ
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর
সাহিত্য একাডেমি কার্যালয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে
যেখানে ঘুমিয়ে আছেন কবি আল মাহমুদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে
বিদায় বেলায়, তারিকুলের সেলফিতে


































0 মন্তব্যসমূহ