গোধূলি বেলার ছবি
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
ত্রিধার থেকে ধেয়ে আসা অন্ধকার দেখে
মিষ্টি হেসে—
দিগন্তের আড়ালে লুকিয়ে যায়
তেজোদ্দীপ্ত রবি,
কী রহস্যময় সে হাসি!
যাবার আগে
আকাশের গায়ে এঁকে যায়—
একটু শোক, একটু ক্ষোভ, ভয় আর
একটু আশার প্রতিচ্ছবি।
শান্ত নদীর মৃদু ঢেউ—
মহাকালের আদালতের কাঠগড়ায়
গোধূলি বেলার রাজসাক্ষী হয়ে—
দুলতে থাকে অনবরত।
এখানে সেখানে— জলের নিচ থেকে
মুক্তির খোঁজে উঁকি দিতে থাকে
বোকা মাছের ঝাঁক।
শূন্য রেখায়
নীড়ে ফেরা পাখিদের ঝাঁক দেখে
ছটফট করতে থাকে—
খাঁচায় জন্ম নেয়া আনাড়ি ডানার পাখি।
তাদের বলা হলো,
বেছে নাও—
নিরাপদ খাদ্য কিংবা মুক্তি সাদৃশ্য মৃত্যু।
তারা বলল—
মৃত্যু সাদৃশ্য বন্দিত্বের চাইতে
মুক্তি সাদৃশ্য মৃত্যু- শ্রেষ্ঠ নয় কি?
দিনের শেষে,
পরিশ্রান্ত মাঝিরা ফিরে আসে
একঢালা মৃত—
অর্ধমৃত মাছের শরীর নিয়ে,
মাছেরা জানে- মাঝিরা জানে না
ওরা মৃত নয়! ওরা মুক্তি পেয়েছে।
থমকে যাওয়া সময়ের ডোরে বাঁধা পড়ে
অসহায় তরী।
উত্তাল ঢেউয়ের বুক চিরে—
এগিয়ে চলা সেই নৌকা এখন মাঝি বিনে
নদীর পা ছুঁয়ে, বিমর্শ পরে থাকে।
তার
নিঃসঙ্গতার প্রহরী হয়ে সটান দাঁড়িয়ে থাকে
নির্বাক এক খুঁটি।
প্রাক সন্ধ্যায় জলকেলিতে ব্যস্ত
সদ্য ফোটা সাপ ছানার দল,
এখনো ওঠেনি
তাদের বিষ দাঁত
মা সাপটি তাই সতর্ক চোখ রাখে—
উপরে-নিচে।
উপুড় হয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে
তাকে নামিয়ে দিয়েই ফিরে যায়—
দাঁরকাকের দল।
মেঘের ওপারে— প্রাসাদের সাজঘরে
লাল-নীল-হলুদ-পরীরা তৈরি হচ্ছে,
আজ রাতে জলসা হবে
সাপ ছানা আর পরী নৃত্যে—
দুলে উঠবে আঁধারের নদী।
জলাধারের এ তীর থেকে ঐ তীরে
চেনা-অচেনা গাছপালা
সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকে
অসহায় মানুষের মতো,
যাদের কেবল দুঃখ আছে—
তবে কোনো ক্ষোভ নেই,
নেই প্রতিবাদ!
তারা রোদে পোড়ে; বাতাসে নড়ে ওঠে
অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়,
প্রবল ঝড়ে পরে যায় টপাস করে !
কিংবা
রাত্রি হলেই তাদের উপর পসরা জমায়
জ্বিন ভূত প্রেত্মের মতো অশরীরী আত্মা।
গোধুলী বেলার সূর্য ডুবে গেছে,
এখন অপেক্ষা
আঁধারের রাত শেষে আবার আসবে—
নতুন ভোর,
নতুন সকাল
আশার আলো নিয়ে উদয় হবে—
নতুন সূর্য।
তখন সবার মুখে ফুটে উঠবে
সুখের, সফলতার— পরিতৃপ্তের হাসি।
-------
দীর্ঘ কবিতা
গোধূলি বেলার ছবি
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
২৭ আগস্ট ২০২৪
লোকনাথ দিঘিরপাড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ছবি লোকেশন : মেঘনা নদী, বাজার চারতলা, আশুগঞ্জ।
ছবি কৃতজ্ঞতা : হেলাল উদ্দিন হৃদয়




0 মন্তব্যসমূহ