মহাদেব নদী। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের দল থেকে নেমে এসেছে মনলোভা এই নদী। বয়ে চলছে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ভেতর দিয়ে। ধীর গতিতে বয়ে চলা পাহাড়ি স্রোত, স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানি– এই নদীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বর্ষা ছাড়া অন্য মৌসুমে হেঁটেই পার হওয়া যায়। হাঁটার সময় পায়ের নিচে একটু একটু সরে যাওয়া অপেক্ষাকৃত মোটা বালুর স্তর— গায়ে অন্যরকম শিহরন জাগিয়ে তোলে।
পানি কম থাকলেও বালু যুক্ত স্রোতোধারা হওয়ায় কোনো যানবাহন পেরিয়ে যেতে পারে না। মাঝের যে অংশটুকুতে পানি একটু বেশি— সেই জায়গাতে মোটরসাইকেল বা মালামাল নিয়ে পারাপারের জন্য নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে। মোটরসাইকেল পারাপারের ভাড়া দশ টাকা হলেও, মানুষ পারাপারের ভাড়া জনপ্রতি মাত্র ৫ টাকা। আমরা তিনজনের ভাড়া বিশ টাকা দিয়েছি। পাঁচ টাকা ফেরত আনতে আবার যেতে হবে।
ভারত সীমান্ত ঘেঁষা নেত্রকোণা জেলার পাঁচগাঁও-কলমাকান্দা-দুর্গাপুর সড়ক। সড়কটি সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহকে সংযুক্ত করেছে। এই সড়ক ধরে গেলে শিমুল বাগান, চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়, চিনামাটির পাহাড়, মেঘালয় পাহাড়, পাতলার বন, বঙ্গটিলা ও সাত শহিদের মাজারে যাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে মাঝে বিভাজন দিয়ে বয়ে চলছে নদী মহাদেব। মহাদেব ছাড়াও সোমেশ্বরী, গণেশ্বরী, কংসসহ বেশ কিছু নদীর দেখা মিলে এই পর্যটন এলাকায়।
গত পহেলা জুন গিয়েছিলাম সুনামগঞ্জের কবি মনজুর মোহাম্মদ ভাইয়ের আমন্ত্রণে, তার কাব্যগ্রন্থ ‘মাছের অক্ষর’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে, কথাসাহিত্যিক আমির হোসেন স্যারের সাথে ।
—
টুকরো ভ্রমণ গদ্য
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
২০ অক্টোবর ২০২৬











0 মন্তব্যসমূহ