যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট : প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির শূন্যতা, পূরণ হোক
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও লোকনাথ দিঘি ময়দানে আজ ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই নির্বাচনে পাঁচটি পদের বিপরীতে ৪৫ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, সেক্রেটারি পদে ৫ জন ও ৫টি সদস্য পদে মোট ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
আন্তর্জাতিক সেবামূলক এই সংগঠনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটে আজীবন সদস্য তথা ভোটার সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। এত সংখ্যক ভোটার দেশের আর কোনো জেলায় আছে বলে জানা নেই। খবরে প্রকাশ, সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪১৬২ জন সদস্য তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রার্থী, তাদের কর্মী-সমর্থক এবং ভোটারদের উপস্থিতিতে কয়েক হাজার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় নির্বাচন কেন্দ্র ও এর আশেপাশের এলাকা।
পীড়িত মানুষের প্রতি পক্ষপাতহীন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ হিসেবে কাজ করে এই সংগঠন। প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট দুর্যোগে দ্রুত এগিয়ে আসে এর নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা। সারা বিশ্বে প্রায় সকল দেশে একই ফর্মুলায় কাজ করে এই প্রতিষ্ঠান। তবে বাংলাদেশে রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট এবং তার সহযোগী সংগঠন ‘যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট’ মানুষের কাছে পরিচিত ‘রক্তদান’ এবং ‘কম্বল বিতরণকারী’ সংগঠন হিসেবে। এটি রেড ক্রিসেন্ট-এর বৃহৎ অর্জন, সুনাম ও মর্যাদার পরিপন্থী একটি ভাবনা। নেতিবাচক এই ভাবনার পিছনে আছে রেড ক্রিসেন্ট-এর কাজের পরিধি সম্পর্কে যথাযথ না জানা এবং এর রিসোর্সগুলো পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার না করা। বিশেষ করে যুব রেড ক্রিসেন্টকে।
অতীতের মতো বর্তমান পৃথিবীও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভরপুর। যুদ্ধ, লড়াই-সংঘাতসহ, সড়ক এবং নৌ দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধস ইত্যাদি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ ছাড়াও বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো এবং আহত মানুষদের সেবা দান করার জন্য যুব রেড ক্রিসেন্টকে গড়ে তুলতে হবে। এবং এই কার্যক্রম শুধু জেলা ইউনিটের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা নয় বরং জেলার প্রতিটি যুবক-যুবততিকেই সহায়ক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আমরা জানি, ‘যুব রেড ক্রিসেন্ট’ সদস্যদের জন্য নানা ধাপে বিভিন্ন ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা আছে।
প্রথমত—জীবন রক্ষাকারী প্রশিক্ষণ : First Aid, CPR, Search and Rescue ইত্যাদি।
দ্বিতীয়ত—দুর্যোগ মোকাবিলা: DMER, Fire Safety, PSS ইত্যাদি।
তৃতীয়ত—নেতৃত্ব ও মানবিক সেবা : RFL, ToT, Leadership Training নামে পরিচিতি।
তারা শিখতে পারে আপৎকালীন উদ্ধার পদ্ধতি তথা রশি ও গিঁটের ব্যবহার, স্ট্রেচার তৈরি, এবং উঁচু স্থান বা পানি থেকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার প্রশিক্ষণ। তারা শিখতে পারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সাড়াদান পদ্ধতি। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রস্তুতি এবং সাড়াদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এর দক্ষ যুব সদস্যরা।
“যুদ্ধ, দুর্যোগ বা অভিবাসনের কারণে বিচ্ছিন্ন পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করা এবং তাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করাও যুব রেড ক্রিসেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।
একবার ভাবুন তো, আপনার সন্তানরা যদি যুব রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে এই সকল প্রশিক্ষণগুলোর এক বা একাধিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে, “তাহলে তারা বিরূপ পরিস্থিতিতে নিজের জীবন রক্ষা করতে পারবে,পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে সহজে ও সঠিক উপায়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারবে।” বিষয়টি আপনার জন্য কত ফলপ্রসূ হবে।
কাজেই যুব রেড ক্রিসেন্ট যতই শক্তিশালী হবে, ততই শক্তিশালী হবে জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটগুলো। এর মাধ্যমে আমাদের দেশ ও সমাজ পাবে একটি দক্ষ জনগোষ্ঠী, যারা বিপদে-আপদে আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নবনির্বাচিত কমিটির কাছে জেলাবাসী সকলের প্রত্যাশা এমনই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ও যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির মাঝে যে শূন্যতা, সেটা নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে পূরণ হোক। নবনির্বাচিত সকলের জন্য শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি।
শুভেচ্ছাসহ
মনিরুল
ইসলাম শ্রাবণ
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংযুক্ত ছবিগুলো ২০১১-১২ সালে উপ যুবপ্রধান -০১ হিসেবে আমার যুব রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রমের কিছু অংশ।

.jpg)
.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ