আমার কন্যা কি তবে লেখক হবে?
----
আকাশ কালো
মেঘ ভরালো
বৃষ্টি পড়ে
টপাটপ,
বৃষ্টি দেখতে
সবাই মিলে করি
ঝপাঝপ।
----
আকাশ কালো
তাসফিয়া
৩/৬/২৬
গত ৩ জুন বিকেলের পরিষ্কার আকাশ হঠাৎ করে কালো বর্ণ ধারণ করে। তখন তাসফিয়া এই ছড়াটি লেখে। রাতে আমি বাসায় ফিরলে আমাকে দেখায়। ছড়াটি পড়ে দেখি মোটামুটি খারাপ না। আবার একটি শিরোনামও দিয়েছে। বানান ভুল মাত্র একটা। আমি ভীষণ পুলক অনুভব করি। তাকে বলি ছড়াটি চমৎকার হয়েছে, নিচে তোমার নাম আর তারিখ লিখে রাখো।
লিখিত হিসেবে এটি তার প্রথম ছড়া হলেও, ছড়া রচনার চেষ্টা তার প্রথম নয়। ওর বয়স যখন আড়াই কি তিন! তখন একদিন সে খেলতে খেলতে একা একাই নানা ধরনের বকবক করছে, যেটা সে সব সময় করে। সে দিন ওর মা খেয়াল করে যে সে একটা বাক্যের মিল দিয়ে বার বার উচ্চারণ করছে। যেটি তার নিত্য পড়া বা শোনা কোনো ছড়াংশ নয়। ওর মা তখন আমাকে ডাক দিয়ে চুপি চুপি সেটা শোনায়। আর বলে, মেয়ে কি তবে বড় হয়ে বাবার মতো লেখালেখি করবে। আমি বলি, বড় হয়ে ওর যেটা ভালো লাগবে, তাই করবে। আমরা তার উপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিবো না। যদিও ছোট বেলার তার সেই ঘটনাকে ছড়ার রচনার চেষ্টা বলা ঠিক ঠিক হবে না। কারণ তার বয়স অনুযায়ী সে তখন প্রচুর কার্টুন দেখতো এবং ছড়া গান শুনত। সেই হিসেবে সারাক্ষণ যেগুলো গুনগুন করত। এই গুণগুণানীর মধ্যে হয়তো কখনো মনের খেয়ালে কোনো একটা কিছু মিল দিয়ে বলে ফেলেছিল, যেটা আমরা নোটিশ করেছিলাম।
তাসফিয়া একটু বড় হওয়ার পর আমি মাঝে মাঝে যখন তাকে ফেসবুকে ভেসে আসা বা আমার কাছে আসা বিভিন্ন বই, পত্রিকার শিশুতোষ কোনো ছড়া পড়ে শোনাই। অথবা আমি কোনো মজার শিশুতোষ ছড়া লেখার পরেই ওর মাকে এবং ওকে শুনাই। এরপর সে ধীরে ধীরে বুঝতে পারে যে, ওর বাবা এরকম মজার কিছু ছড়া লিখতে পারে। তাহলে সেও পারবে। তো এটা বোঝার পর থেকে সে মাঝে মাঝে কথা বলার সময় হঠাৎ হঠাৎ করে কোনো শব্দ একটু অন্ত মিলের মতো শোনালে সেটা আমাকে বা ওর মাকে গিয়ে বলবে যে এটা দিয়ে একটা ছড়া লেখা যাবে কিনা বল? এমনও হয়েছে যে, তাসফিয়া বলা কোনো শব্দ দিয়ে আমি ছড়া লিখেছি এবং সেই ছড়া যখন আমি আবার তাকে শুনাতাম, তখন তার মধ্যেও সেটা নিয়ে একটা ভালো লাগা কাজ করতো। সেই ছড়া প্রকাশ হলে তো সে আরো খুশি হতো।
এখন তার ছোট বোন তাসনিয়ারও মাঝে মাঝে বিভিন্ন আধো বলা শব্দ বা ওর বিভিন্ন অভিব্যক্তি নিয়ে ছড়া লেখার চেষ্টা করি। যেমন কিছুদিন আগে তাসনিয়া ঘরের দেয়ালে টিকটিকি দেখে অবাক হয়। আমরা যখন ওকে এর নাম শেখালাম, সে তখন বারবার অস্ফুট উচ্চারণে বলেতেছিল ‘তিতটিকি’ ‘তিতটিকি’। আমি তখন টিকটিকি নিয়ে একটা ছড়া লিখে ফেললাম। আমার এই ধরনের আচরণের প্রভাব তাসফিয়ার উপর পড়েছে। সেই প্রভাব থেকেই হঠাৎ করে সেদিন এই ছড়াটি লিখেছে। ওর বয়স এখন সাড়ে আট। এই বয়সে ওর প্রথম লিখিত ছড়া আসলো। এটি অবশ্যই ওর জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা। তাই আমি ওর ডাইরিতে এই ঘটনা নোট করে রাখলাম ।
-----
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
৯ জুন ২৬

0 মন্তব্যসমূহ