চার বন্ধু গল্পের আসর বসিয়েছে। একটি বই, বৈদ্যুতিক টেবিল ল্যাম্প, মোমবাতি আর এক বক্স দিয়াশলাই- ওরা চার বন্ধু। সচরাচর তাদের একসাথে দেখা হয় না। একজন থাকলে, আরেকজনের দেখা নেই। যেদিন দেখা হয় সেদিন গল্প গল্পে রাত শেষ হয়ে যায় তাদের। এক সন্ধ্যায় তাদের সবার দেখা হতেই নিজেরা ভীষণ গল্প জুড়ে দিল। বই বললো, আমি তোমাদের মজার একটা গল্প পড়ে শোনাবো, তোমরা কি শুনবে? অন্যরা বলল- কেন শুনবো না, তুমি পড়া শুরু করে দাও। বইটি তার পাতা খুলে চমৎকার একটি গল্প পড়ে শোনাতে লাগলো।
বইয়ের গল্প পড়া কিছুক্ষণ চলার পরেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে টেবিল ল্যাম্পটি নিভে গেল। বই তার গল্প পড়া বন্ধ করতে বাধ্য হলো। এসময় দিয়াশলাই বলল- ঘাবরিও না। আমি জ্বলে উঠে মোমবাতিকে জ্বালিয়ে দিচ্ছি। তারপর তুমি তোমার গল্প শোনাতে পারবে। মোমবাতি জ্বলে উঠতেই আলোকিত হয়ে উঠলো চারপাশ। বইয়ের মুখে কী হাঁসি, সে আবার পড়তে লাগলো। গল্পটিও খুব মজার, অন্য তিনজন মনোযোগী শ্রোতা।
কিছুক্ষণ পর ইলেক্ট্রিসিটি চলে আসলে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে উঠলো এবং মোমবাতি নিভে গেল। টেবিল ল্যাম্পের আলোয় বইয়ের পড়া আবার চলতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর আবার ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে নিভে গেল বৈদ্যুতিক বাতি। দিয়াশলাই আবার জ্বালিয়ে দিল মোমবাতিকে। এভাবেই চলতে লাগলো তাদের পড়া ও আড্ডা। বেশ মজার বই, ভালোভাবে উপভোগ করছিল তারা। কিন্তু বারবার ইলেকট্রিসিটি যায় আর আসে। দিয়াশলাই জ্বলে উঠে আর নেবে, সাথে মোমবাতিটিও।
এমনি করে একসময় দিয়াশলাইয়ের সব কাঠি শেষ হয়ে গেল। শেষ কাটিটি জ্বালিয়ে দিয়াশলাই মোমবাতিকে বলল- এরপর কিন্তু আমি আর তোমাকে জ্বালাতে পারব না। কাজেই তুমি আর নিজেকে নিভে যেতে দিও না। জ্বলতে থাকো যতক্ষণ না বইয়ের পড়া শেষ হয়। এমনকি ইলেকট্রিসিটি আসলেও তুমি নিজেকে নিভতে দিও না। পরে কিন্তু আবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তোমাকে পস্তাতে হবে। মোমবাতি বললো- ঠিক আছে বন্ধু, তাই হবে।
মোমবাতি জ্বলতে থাকলো, বইয়ের পড়াও চলতে থাকলো। যথারীতি ইলেকট্রিসিটিও কিছুক্ষণ পর পর আসা যাওয়া করতে লাগল। এভাবে একবার মোমবাতি জ্বলে উঠে, একবার টেবিল ল্যাম্প জ্বলে ওঠে, আবার নিভে যায়। আবার জ্বলে ওঠে, আবার নিভে যায়। সাথে চলতে থাকে বইয়ের পড়া। একসময় মোমবাতিটি জ্বলে জ্বলে নিঃশেষ হয়ে গেল। তখনো বইয়ের পড়া অনেকটুকু বাকি, কিন্তু ইলেকট্রিসিটি যে গিয়েছে বেশ কয়েক ঘন্টা আগে, তার আর আসার নাম নেই। রাত শেষ হয়ে গেলেও বইয়ের পড়া আর শেষ হলো না।
----------
একটি অসমাপ্ত গল্প
মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ
১৯ এপ্রিল ২৬

0 মন্তব্যসমূহ